বন্যায় নানামুখী সংকট, মানবেতর জীবনযাপন গাইবান্ধার ৫০ হাজার মানুষের
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০ । ১২:২২
নদ-নদীর পানি কমায় গাইবান্ধা জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে দুর্ভোগ কমেনি ওই এলাকার পানিবন্দি মানুষের।
গাইবান্ধার চার উপজেলার ২৬টি ইউনিয়নের অন্তত ৫০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। এদের অধিকাংশই ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র ও উঁচু সড়কে। এসব মানুষের বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং শুকনা খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। খাবার না থাকায় অনাহারে মানবেতর দিন কাটছে দুর্গতদের।
জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলায় এ পর্যন্ত বন্যা ও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন মানুষ।
গত ১৫ দিনে সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম বিলীন হয়েছে। ভাঙনে অন্তত ২ হাজার পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে। ভাঙনে ফুলছড়ি উপজেলার সাত ইউনিয়নের ৬৫০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ।
সরেজমিনে দুর্গত মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় গরু-ছাগল আর ঘরের জিনিসপত্র নিয়ে কোনোরকমে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু সড়কে। কাজকর্ম নেই, ঘরে খাবারও নেই তাদের। ৫-৭ দিন ধরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছেন তারা। চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মাঝে সরকারিভাবে চাল ও নগদ টাকাসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল বলে অভিযোগ বানভাসি মানুষের। সূত্র – বাংলা ট্রিবিউন।

