আটক পাপুল ‘কুয়েতের নাগরিক নন’, টিকে যাচ্ছে এমপি পদ!

আটক পাপুল ‘কুয়েতের নাগরিক নন’, টিকে যাচ্ছে এমপি পদ!
সাংসদ কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল । লক্ষ্মীপুর-২ । একাদশ সংসদ

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৮:০৫

মানবপাচারের অভিযোগে আটকের পর কুয়েতের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশের সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী মোহাম্মদ শহিদ ইসলাম পাপুল ‘কুয়েতের নাগরিক নন’ বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। উপসাগরীয় ওই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই বাংলাদেশি শহিদ ইসলাম কুয়েতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন বলে সোশাল মিডিয়াতে যেসব কথা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয়।

লক্ষীপুর-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম এলাকাবাসীর কাছে পাপুল নামেই বেশি পরিচিত।

পাপুলের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়ে ছিলেন, তিনি কুয়েতের নাগরিক হলে সংসদ সদস্য পদ থাকবে না। বুধবার সংসদ নেতার দেওয়া বক্তব্যের একদিন পরেই কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে নতুন তথ্য জানানো হলো।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কুয়েতের একটি আইনে তিনি সেখানে বসবাস করছেন এবং একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে পাবলিক প্রসিকিউশনের হেফাজতে রয়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশি এই এমপির গ্রেফতারের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংসদে বলেছেন, সে (পাপুল) কুয়েতের নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যাবে। এবিষয়ে বাংলাদেশ সরকার খোঁজ খবর নিচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে কুয়েত সরকারের বক্তব্যের পর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা না থাকায় এ মুহূর্তে পাপুলের এমপি পদ হারাতে হচ্ছে না। তবে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হলে পরবর্তীতে এমপি পদ হারানোর আশঙ্কা আছে।

শহিদ ইসলাম পাপুল ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। পরে তার স্ত্রীও সংরক্ষিত আসনে এমপি নির্বাচিত হন। দেশে একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এমপি এমন ঘটনা দ্বিতীয়টি নেই একাদশ সংসদে। দেশের ইতিহাসেও এটি বিরল।

কুয়েতে পাচার হওয়া কয়েকজন বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে জুন মাসের শুরুতে পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়। তার কোম্পানির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশেও তার ও তার পরিবারের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে দুদকও তদন্ত করছে পাপুলের অবৈধ সম্পদের সূত্র।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading