রাজবাড়ীতে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ
উত্তরদক্ষিণ রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৬:০৫
জুলফিকার আলী, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়ায় সরকারি খাস জমি জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ২০ জুন ভূমিমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, মহাপরিচালক, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় এবং মহাপরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জমি দখল করেছেন। এতে ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ মন্ডলসহ বোয়ালিয়া ইউপি ভূমি অফিসের ও পিআইও অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সহিদ খান এই অভিযোগ করেন। তাঁর বাড়ি বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে। সহিদের বাবার নাম ওসমান খান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালুখালীর বোয়ালিয়া মৌজায় খতিয়ান নম্বর ১/১ ভুক্ত ও ২০৬৩ নম্বর দাগে সরকারের এক একর ৮৬ শতাংশ খাস জমি রয়েছে। এই জমির মালিক সরকার। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে এই সম্পত্তি স্থানীয় বাসিন্দা হযরুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি ভোগদখল ও চাষাবাদ করতেন। তিনি ১৯৭৩ সালে মারা যান। এরপর তাঁর তিন মেয়ে ও স্বজনরা ওই জমির মালিক হয়। তবে বড় মেয়ে ১৯৬০ সালে মারা যায়। ১৯৮০ সালের বিভিন্ন সময়ে ওয়ারিশমূলে তিন মেয়ের কাছ থেকে জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। কিন্তু নামজারি করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন।
১৯৮০ সালের ২৯ ডিসেম্বর মৃত ব্যক্তিদের জীবিত দেখিয়ে জমির নামজারি করা হয় হযরুদ্দিনের নামে। পরদিনই ৩০শে ডিসেম্বর মকিম উদ্দিন ও মোশারফ মিয়ার নামে নামজারি করা হয়। হযরুদ্দিনের আবদুল শেখ নামে আরেক ভাই ছিলো। কিন্তু এদের নাতিরা বয়সে সে সময়ে ছোট হওয়ার এবিষয়ে কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি।
সম্প্রতি মকিম উদ্দিন তাঁর ছেলের বউ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাসরিন সুলতানার নামে উক্ত জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর বোয়ালিয়া ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ মন্ডলসহ সরকারি লোকদের কাজে লাগিয়ে জমির দখল নেওয়া হয়।
এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আকবর শেখ, ইব্রাহিম শেখ, ফারুখ শেখ বলেন, দখলদার পক্ষ প্রভাবশালী। ওই জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা আছে। জালিয়াতি করে জমির দলিল করার অভিযোগ রয়েছে।
ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রশিদ মন্ডল বলেন, শুনেছি জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। তবে তা নিজেদের মধ্যে। নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করার কথা ছিলো। মকিম মাস্টার সাহেবের ছেলে আমাকে থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। এ কারণে আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। তবে অপর পক্ষের লোকজন না আসায় আর মাপা হয়নি। আমি কিছুক্ষণ থাকার পর সেখান থেকে চলে আসি। আমি কারো পক্ষে জমি দখল করতে যাইনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দা সহিদ নামে এক ব্যক্তি প্রায় দেড়বছর আগে ওই জমি নিয়ে আপত্তির কথা বলেছিলো। পরে তিনি আর এ বিষয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাই।
পিআইও নাসরিন সুলতানা বলেন, এই জমি আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ বেশ কিছু ব্যক্তি ৪০-৪২ বছর আগে থেকে ব্যবহার করে আসছেন। এখানে বাড়িঘরসহ একটি মিলও রয়েছে। আমার বিয়ে হয়েছে ১৩-১৪ বছর আগে। ওই জমির মালিক তাঁরা কীভাবে হয়েছে তা জানি না। তবে আমার নামে জমি লিখে দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি আমার দেবর ঘর তুলতে গেলে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ফারুক শেখসহ কয়েকজন বাধা দেয়। এতে করে ইউনিয়ন তহসিল অফিসে জমি মাপজোখের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত দিনে বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ উপস্থিত হয়নি।
জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, অভিযোগের কপি আমার সামনে আসেনি। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

