চেঁচড়া সীমান্তে মিষ্টি মাল্টা চাষে আব্দুল আলিমের সফলতা
মোসলেম উদ্দিন । উত্তরদক্ষিণ
হিলি (দিনাজপুর); বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১১:৩০
লাভের আশায় এবং নিজেকে স্ববলম্বী করতে চেঁচড়া সীমান্তে ৮০ শতকের উপর মাল্টার চাষ করেছেন আব্দুল আলিম। অতিসুস্বাদু ও মিষ্টি জাতের মাল্টা। ঈদের পরেই প্রায় দেড় লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করবে আলিম। তার মাল্টা চাষে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
দিনাজপুরের হিলি সীমান্তের কোল ঘেঁষে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম কর্ণারে এই চেঁচড়া সীমান্ত। যেটি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উত্তরে শেষ সীমানায় অবস্থিত। পলি মাটিতে ৮০ শতকের ২৩০টি গাছ দিয়ে এই মাল্টা বাগান।
আব্দুল আলিম জানায়, প্রথমে সে দিনাজপুর থেকে ২৩৫ টি উন্নত জাতের বারি-১ মাল্টার চারা কিনে আনে। প্রতিটি চারা ক্রয় করতে ১৫০ টাকা খরচ হয়। চারা লাগানোর আগে ঐ স্থানে গর্ত করে ৫ কেজি গবর ও অল্প পরিমাণের সব ধরনের সার দিয়ে গর্তে ১৫ দিন রেখে দেয়। ১৫ দিন পর মাটি সার একত্রে মিশিয়ে প্রতিটি চারা রোপন করে। একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের মাঝে ৫ হাত দূরত্ব বজায় রেখে চারাগুলো রোপন করা হয়। দুই বছর তার মাল্টা বাগানের বয়স। এ যাবৎ সব খরচ মিলে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
এ বছর প্রতিটি গাছে আশানুরুপ মাল্টা ধরেছে। কোরবানি ঈদের পর বাগান মালিক আশা করছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মত মাল্টা বিক্রি করবে।
বাগান মালিক আব্দুল আলিম বলেন, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো একটি উন্নত জাতের মাল্টা বাগান তৈরি করবো। অনেক আশা নিয়ে এই বাগান করেছি। এই বাগানে আমি অনেক অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেছি। দুই বছর ধরে অনেক যত্ন করে এই বাগান তৈরি করছি। আজ আমার স্বপ্ন আর আশা – পূরনের দিকে। প্রতিটি গাছে মাল্টা ধরেছে। খেতেও বড় সুস্বাদু। আমাকে আর পিছোনে ফিরে তাকাতে হবে না, কেননা আগামী বছর থেকে আমার বাগানে আরও অনেক বেশি ফলন ফলবে।
”আশা করছি দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আমার বাগানের সকল খরচ উসুল হবে। বর্তমান বাজারে মাল্টা খুচরা মুল্য ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি। অনেকেই আমার মাল্টা পাইকারী ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা করে দাম করেছে।”
স্থানীয় তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর থেকে এই মাল্টার চাষ করছে আলিম। অনেক শ্রম সে দিয়েছে। তার বাগানের প্রচুর ফল এসেছে। গত বছর প্রথম ফল ধরে ছিলো। আমি খেয়েছিলাম, অনেক সুস্বাদু আর মিস্টি জাতের। আমিও আশা করছি তার বাগান দেখে একটা ছোট মাল্টা বাগান করবো।
হিলি বাজারের মাল্টা ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান জানান, আমার কাছে চায়না মাল্টা আছে। এইগুলো ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে পাইকারী কিনেছি এবং ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি করছি। দেশি মাল্টাগুলো একটু টক, তারপরও অনেকেই দেশি মাল্টার খোঁজ করে।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার লুৎফর রহমান জানান, পাঁচবিবি উপজেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৫০ টি মাল্টা বাগান রয়েছে। চেঁচড়া সীমান্তের আব্দুল আলিমের মাল্টা বাগান আমরা প্রতি মাসে পরিদর্শন করে আসছি। প্রথমে আমরা তাকে বারি-১ উন্নত জাতের চারার জন্য পরামর্শ দেই। বারি-১ মাল্টা চাষের জন্য পাঁচবিবি মাটি ও আবহাওয়া ভাল উপযোগী। তার বাগানের মাল্টা অনেক সুস্বাদু। বর্তমান অনেকেই মাল্টার চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। আশা করছি এই মাল্টা চাষ করে আব্দুল আলিম নিজেকে স্বাবলম্বী করতে পারবে।

