সুনামগঞ্জবাসী তৃতীয় দফায় বন্যার কবলে
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২২ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২০:৫৫
টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। তৃতীয় দফা বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন জেলা নিম্ন আয়ের ও নিচু এলাকার মানুষ। নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় পানিতে ডুবে গেছে ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সবকটি উপজেলার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলায় ও ৪টি পৌরসভায় ২৯৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।
সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, সুনামগঞ্জ অঞ্চলে আরো মাস খানেক বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, আগামী দু’তিন দিন বৃষ্টিপাত বেশী হবে বলেও জানান তিনি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বাড়বে। সেই সাথে উজানের ঢলও আসতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। চাহিদা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তৃতীয় দফা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ। গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৮ দশমিক ১২ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিপদ সীমার ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে ১২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে সুরমা নদীতে পানি বিপদ সীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১২০ মিলিমিটার।
ছাতকে পানি সুরমা নদীতে ১৬৪ সন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত ১৬৪ মিলিমিটারি। তাহিরপুরে যাদু কাটা নদীতে ৬৮ সেন্টিমিটার এবং বৃষ্টিপাত ২০৬ মিলিমিটার এবং দিরাইয়ে সুরমা নদীতে ২৮ সেন্টমিটার, বৃষ্টিপাত ৯৩ মিলিমিটার গত ২৪ঘন্টায়।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৫ মে পর্যন্ত হাওরের ফসল রক্ষার জন্য সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমা ছিল ৬ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার এবং ১৫ মে-এর পরে বিপদ সীমা হল ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বর্ষাকালে সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমা ধরা হয়। এর আগে ১৫ জুলাই সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডে অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে বন্যার সতর্কতা দিয়ে জানানো হয়, সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদীসমূহের পানি বর্তমানে হ্রাস পাচ্ছে। পানি হ্রাস পাওয়ার এ প্রবণতা আগামী ১৯ জুলাই পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং এ সময় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকতে পারে।
বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পানি বৃদ্ধির এ প্রবণতা ৪/৫ দিন স্থায়ী হতে পারে। এর ধারা বাহিকতায় জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা নদীর পানি সমতল কোথাও কোথাও বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং কোথাও কোথাও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলায় ও ৪টি পৌরসভায় ২৯৫টি আশ্রয় কেন্দ্র পস্তুত রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮২টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোনিয়া সুলতানা বলেন, বন্যা মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক মনিটরিংসহ কন্ট্রোলরুম খোলা রয়েছে। উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন ছাড়াও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ বানভাসিদের মাঝে শুকনো খাবার প্যাকসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। দু’দফা বন্যার রেশ কেটে উঠার আগেই সপ্তাহকালের ব্যবধানে ফের তৃতীয় দফা বন্যা শুরু হয়। এবারের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে আমাদের সকল তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: বাসস। ছবি: সংগৃহীত।

