২৭ মণের যুবরাজকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় সুন্দরগঞ্জের বাদল
সুদীপ্ত শামীম । উত্তরদক্ষিণ
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা); বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১২:১৮
প্রতি বছর ঈদুল আজহায় বাহারি নামের অনেক গরু নজর কাড়ে মানুষের। উৎসুখ মানুষের আলোচনায় থাকে এসব গরু। সুলতান, নবাব, কালা তুফান, গাদ্দাফী, লাদেন, বাহুবলী, রাজা, বাদশা, ট্রাম্প, কালো মানিক নামে বিভিন্ন গরু বাজারে আসে। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবার বাহারি নামের গরু থাকলেও অনেক খামারিই এদের নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
কারণ – করোনাভাইরাস। করোনাকালিন এই পরিস্থিতিতে এবারের কুরবানী ঈদে অনেক খামারিই তাদের পালিত কুরবানীর পশুর দাম আশানুরূপ পাচ্ছেন না বলে হতাশ হয়ে পড়েছেন।
এমনই একজন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সৌখিন খামারি বাদল খন্দকার। অনিশ্চয়তায় আছেন চিকচিকে কালো আর নজরকাড়া বিশাল আকৃতির ষাঁড় যুবরাজকে নিয়ে। বিশালাকৃতির এই যুবরাজকে পরম মমতায় বড় করে তুলেছেন তিনি।
যেমন তার গরুর নাম, তেমনি অনেকটা রাজকীয় হালেই লালন-পালন করেছেন এই যুবরাজকে। দিনের বেশিরভাগ সময় ফ্যানের নিচে শীতল হাওয়ায় রাখতে হয় তাকে। প্রতিদিন স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দেন কলা, ছোলা ও মুসুর ডাল। ধারণা করা হচ্ছে, এটিই গাইবান্ধা জেলায় এবারের সবচেয়ে বড় কোরবানির পশু।
স্থানীয়ভাবে ২৭ মন ওজনের কালো রঙের দৃষ্টিনন্দন এই যুবরাজের দাম হাঁকা হচ্ছে ৯ লাখ টাকা। বিশালাকৃতির যুবরাজকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে দূর-দূরান্তের ক্রেতা ও উৎসুক মানুষেরা। তবে স্থানীয়ভাবে কোনো ক্রেতাই কাঙ্খিত দাম হাঁকায় যুবরাজকে বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন খামারি বাদল খন্দকার। করোনার বিপর্যয়ে স্বপ্নের যুবরাজকে বিক্রি করার সেই আশা এখন যেন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে যুবরাজকে গোসল করানোর পর সাজিয়ে দিচ্ছেন মালিক বাদল খন্দকার। পরে তাকে খাবার হিসেবে দেয়া হচ্ছে কলা ও ভুষি। আর যুবরাজের ঘরে বৈদ্যুতিক পাখা লাগিয়ে শীতল হাওয়া দেয়া হচ্ছে। তার থাকার ঘরটি একদম পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। একটু পরেই বেশকিছু দর্শনার্থী এলেন বিশালাকৃতির যুবরাজকে দেখতে। অনেকেই যুবরাজকে দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করে মালিকের প্রশংসা করেন।
আকাশ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, এতবড় বিশাল গরু আমার জীবনে দেখিনি। নজরকাড়া সৌন্দর্যের এই গরু লালন-পালনকারী মালিকের ধৈর্য আছে।
সাইফুল নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, দেশিয় পদ্ধতিতে যে এত বড় গরু লালন-পালন করা যায়, জানতাম না। আমার জীবনে প্রথম চোখে দেখা বিশাল আকৃতির গরু। গরুর মালিকের চাহিদা আর ধৈর্য অনেক বেশি।
এ ব্যাপারে যুবরাজের মালিক বাদল খন্দকার জানান, বাড়িতে পালন করা ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী থেকে যুবরাজের জন্ম। জন্মের পর এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সবার নজর কাড়ে যুবরাজ। যুবরাজের বয়স এখন প্রায় চার বছর। ওজনে ২৭ মণ। প্রতিদিন যুবরাজের পেছনে ব্যয় হয় সাড়ে তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকা।
তিনি বলেন, “বর্তমানে যুবরাজকে বিক্রি করা নিয়ে চিন্তায় আছি। আশা করেছিলাম অন্তত ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কিন্তু করোনাকালে কেউ কাঙ্খিত দাম বলেনি। এদিকে সব হাটে যুবরাজকে নিয়ে যাওয়াও কষ্টকর। একদিকে অর্থ ব্যয় হয় অন্যদিকে কেউ কাঙ্খিত দাম বলে না।”

