সবার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

সবার জন্য ঘরের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০ । আপডেট ২০:২৫

জলবায়ু উদ্বাস্তু ৬০০ পরিবারকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় সরকারপ্রধান বলেছেন, ‘জাতির পিতার এই জন্মশতবর্ষে আমাদের অঙ্গীকার, দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেক মানুষকে আমি যেভাবেই পারি, একটা চালা হলেও করে দেবো।’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ৬০০ জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর ‘ড্রিম প্রজেক্ট’ খ্যাত বিশেষ এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুরুশকুলে বাঁকখালী নদীর তীরে ২৫৩ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পকে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয়কেন্দ্র বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছি। আর সেই লক্ষ্য আমাদের অর্জন করতে হবে। এভাবে আমাদের সমস্ত কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কাজেই জাতির পিতার এই জন্মশতবর্ষে আমাদের লক্ষ্য কেউ গৃহহীন থাকবে না। সবার থাকার ব্যবস্থা করা হবে। অন্তত একচালা করে হলেও করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অঙ্গীকার ‘মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না’ বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে বিমানবন্দর নির্মাণ করতে গিয়ে দেখলাম জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবং ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে অনেকে ঘরবাড়ি, ভিটামাটি হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে আছেন। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম তাদের পুনর্বাসন করবো। সেই চিন্তা থেকেই এই প্রকল্প। এখানে নতুন শহরের মধ্যে মানুষ বসবাস করতে পারবে।’

তিনি ফ্ল্যাটপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখানে আলাদা একটা সুন্দর শহর গড়ে উঠবে। আপনারা এতোদিন যেভাবে ছিলেন কষ্টের মধ্যে, এখন সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারবেন। আপনাদের ছেলেমেয়েরা মানুষ হবে, বড় হবে। সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘কক্সবাজার আমাদের পর্যটক এলাকা। কক্সবাজারে সৈকতে বিশাল ঝাউবন। এটা জাতির পিতার নির্দেশেই করা হয়েছিল, যেন প্রাকৃতিক জলোচ্ছ্বাস থেকে কক্সবাজার শহরটা রক্ষা করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ২০টি ভবন করা হয়েছে, ভবিষ্যতে বাকি ভবনগুলো করা হবে। এখানে সবকিছু থাকবে। সেখানে ১৪টা খেলার মাঠ, সবুজ এলাকা থাকবে, মসজিদ, মন্দির থাকবে। অন্য ধর্মাবলম্বী যদি থাকে তাদের প্রার্থনার জায়গাও থাকবে। স্কুল থাকবে, প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুল করে দেবো। সেখানে পুকুর খনন করা হয়েছে। সেখান থেকে সুপেয় পানি খেতে পারবেন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ফাঁড়ি করা হবে। ফায়ার স্টেশন থাকবে। দুটো জেটি করা হবে, যেখানে জাহাজ ভাঙতে পারবে। তাছাড়া যারা মাছ ধরতে যায়, তারা মাছ ধরে যেন শুঁটকি শুকাতে পারে সেজন্য জায়গা করে দেবো। সুন্দর বাজার করে দেবো। সুন্দর শুঁটকির হাট করে দেবো, সেটা দৃষ্টিনন্দন করবো। আধুনিকভাবে করে দেবো, যেন সেখানে মানুষ দেখতে যায়।’

এ প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য সেখানে সোলার প্যানেলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যুতের জন্য সাব স্টেশন করা হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে। তাছাড়া বাঁকখালী নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গেছে। সেখানে ৫৯৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটা প্লেস নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে চারটি সাইক্লোন সেন্টার করা হবে। যে ভবন করা হয়েছে সেগুলোর নিচ তলা সম্পূর্ণ ফাঁকা। অর্থাৎ জলোচ্ছ্বাস হলে পানি যেন এদিক থেকে ওদিকে চলে যেতে পারে।’

গণভবন প্রান্তে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস। তিনি অনুষ্ঠানের শুরুতেই একটি সংক্ষিপ্ত পটভূমি তুলে ধরেন। এরপর একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী করা হয়। এ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। কক্সবাজার প্রান্তে প্রকল্প এলাকায় উদ্বোধনে অংশ নেন স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিরা। উদ্বোধন শেষে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করা হয়। এরপর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় তিন জন উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তিনটি বৃক্ষ রোপণ করেন। এরপর গণভবন প্রান্ত থেকে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

প্রকল্প এলাকায় জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সেখানে তিন জন উপকারভোগীর কথা শোনা হয়। তারা আঞ্চলিক ভাষায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। গণভবনে প্রান্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকল্প এলাকার একটি স্মারক প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ। সূত্র: বাসস।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading