মানুষ বন্যায় আক্রান্ত: ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৬:৩৫
প্রায় প্রতিবছর বাংলাদেশের নদী অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর কারণ হিসেবে তিনি সরকারের ‘নতজানু পরারাষ্ট্রনীতি’র কথা উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে ‘ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন’ প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দলটি। সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থির বিষয়ে আয়োজিত বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলটির মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একদিকে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। অন্যদিকে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমাগত বাংলাদেশের মানুষ চরম দুর্ভোগে। করোনা মোকাবিলায় সরকারের চরম ব্যর্থতা মানুষের জীবন ও জীবিকাকে বিপন্ন করে তুলেছে। আর উজান থেকে বন্যার পানি নেমে আসাতে মানুষের সম্পদ, বাড়ি-ঘর ভেঙে যাওয়া, গবাদি পশুর মৃত্যু, ফসলহানি দেশের মানুষ সীমাহীন কষ্ট ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের মধ্যে ফেলেছে। ভারত অভিন্ন নদী গুলোর সব বাঁধ ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি, বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা, মহানন্দ, পদ্মা, তিস্তা ও ধরলা নদীর অববাহিকায় ৩৪টি জেলা ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে।’
অভিযোগের সুরে বিএনপির এই নীতি নির্ধারক বলেন, ‘তিস্তার চুক্তির কথা ফলাও করে এই সরকার প্রচার করলেও গত এক দশকে কোনও চুক্তিই করতে সক্ষম হয়নি। অথচ একের পর এক ট্রানজিট, বন্দর ব্যবহার, বিদ্যুৎ ক্রয়সহ অসংখ্য অসমচুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’ সীমান্তে প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘সে ব্যাপারেও সরকার কোনও কার্যকরী প্রতিবাদ জানাতে সাহস পায়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল জানান, বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আহ্বায়ক করেছে বিএনপি। এই কমিটি অতিদ্রুত সারাদেশে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংবাদ সম্মেলনে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যুক্ত ছিলেন।

