পানিতে ডুবে একদিনে ১১ শিশুর মৃত্যু
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ০৯:৪০
দেশের ৬ জেলায় পানিতে ডুবে সোমবার (৩ আগস্ট) একদিনে ১১ শিশুর প্রাণহানি হয়েছে। টাঙ্গাইল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়, ঢাকা ও শেরপুরে এই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরমধ্যে টাঙ্গাইল ও পটুয়াখালীতে ৩ জন করে, কুমিল্লায় ২ জন এবং ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও শেরপুরে ১ জন করে মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় ভাই-বোন এবং মির্জাপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলো- কালিহাতীর নারান্দিয়া ইউনিয়নের গিলাবাড়ী গ্রামের ট্রাক চালক লাভলু তরফদারের মেয়ে খুশি (৪), টাঙ্গাইল সদরের বেতবাড়ী গ্রামের এনজিওকর্মী আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে আবির হোসেন (৩) এবং মির্জাপুর উপজেলার পুষ্টকামুরী চরপাড়া গ্রামের নওশাদ হোসেন (১৩)।
মৃতের স্বজনদের বরাত দিয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র উপসহকারী পরিচালক খন্দকার আবদুল জলিল সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার দুপুরে নওশাদ তার মা এবং কয়েকজন বন্ধু মিলে গোসল করতে যায়। এক সময় সাঁতার না জানা নওশাদ সবার অজান্তে স্রোতের তোড়ে সড়ক থেকে বিলের পানিতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হলে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মহাসড়ক থেকে আনুমানিক ৫০ গজ ভাটিতে পুষ্টকামুরী বিল থেকে নওশাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠী গ্রামে বাড়ির সামনের পুকুর থেকে তিন বোনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলো- মাহফুজা বেগম (১৫), মরিয়ম বেগম (১৫) ও মারিয়া বেগম (১১)। এর মধ্যে ওই গ্রামের মোখলেচুর রহমানের মেয়ে মরিয়ম ও মারিয়া আপন দুই বোন এবং আব্দুর রাজ্জাক খানের মেয়ে মাহফুজা তাদের চাচাত বোন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফয়সাল আহমেদ মনির মোল্লা।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, জেনেছি, বিকাল ৩টার দিকে ওই তিন বোন বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে জড়াজড়ি করা অবস্থায় তিন বোনের মৃতদেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করে স্বজনরা। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবেই হয়তো স্বজনরা আর হাসপাতালে নিয়ে আসেনি।
কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। কুমিল্লার হোমনা থানার ওসি আবুল কায়েস আকন্দ জানান, সোমবার উপজেলার আছাদপুর ইউনিয়নের খোদেদাউপুর গ্রামে দিঘীতে ডুবে ২ শিশু মারা গেছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ভুরভুরিয়া গ্রামের ভুরভুরিয়া গ্রামে পুকুরে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলো খোদেদাউপুর গ্রামের খন্দকার বাড়ির মো. আমির হোসেনের ছেলে আপতাহি (১৩) ও তার খালাত ভাই সাকিব (১১) ও ভুরভুরিয়া গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে জয়নাল আবেদীন। হোমনার ওসি আবুল কায়েস বলেন, ১৭ মাসের জয়নাল জয়নাল পুকুরে ডুবে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, ঢাকার ধামরাইয়ে বন্যার পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামে বাড়ির পাশে বন্যার পানিতে শিশুটি ডুবে যায়। সোহাগ ধামরাইয়ের সুয়াপুর ইউনিয়নের কুটিরচর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। সোহাগের স্বজনদের বরাত দিয়ে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর রিফফাত আরা বলেন, বিকালে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে ডুবে যায় সোহাগ। তাকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নানা বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে নাফিজা নামে চার বছর বয়সী এক শিশু মারা গেছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রয়াত নাফিজা শ্রীবরদী উপজেলার চৈতাজানি গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে। শিশুটির পরিবারের বরাত দিয়ে ঝিনাইগাতী থানার ওসি আবু বকর ছিদ্দিক জানান, এ ব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

