পাবিপ্রবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি ১ জন

পাবিপ্রবিতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি ১ জন

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৯:৫৫

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮ ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭ ব্যাচ) কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নবীন শিক্ষার্থীর নাম মুশফিকুর রহমান তুহিন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা হলেন, ফার্মেসি বিভাগের সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুরসহ আরও কয়েকজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে ১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ১৮ ব্যাচের সব ছেলে শিক্ষার্থীকে বিকেল সাড়ে তিনটার মধ্যে পাবনা পৌর সদরের বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন।

নবীন শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে ১৭ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের বিভিন্ন ভুল ধরতে থাকেন এবং অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন, গালাগাল করেন এবং মানসিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

একপর্যায়ে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন মুশফিক। তিনি প্রচুর ঘামতে থাকেন এবং প্যানিক অ্যাটাক করেন। প্রথমদিকে সিনিয়ররা বিষয়টি সিরিয়াসলি নেননি। পরবর্তীতে তাঁর অবস্থার আরও অবনতি হলে রাত আটটার দিকে তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক র‍্যাগিংয়ের ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকবৃন্দ পাবনা জেনারেল হাসপাতালে উপস্থিত হন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অবস্থার উন্নতি না হলে রাত ১১টায় তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ১৮ ব্যাচের একাধিক নবীন শিক্ষার্থী জানান, সিনিয়ররা তাদের মেসে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। তবে শারীরিকভাবে কাউকে নির্যাতন করা হয়নি। মুশফিক আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মানসিক চাপের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ফার্মেসি বিভাগের সিনিয়র ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি। তারা গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, আমরা হাসপাতালে গিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে র‍্যাগিংয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইউডি/রেজা/রহমান

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading