অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভিত্তিস্থাপন, ‘স্বর্ণযুগের সূচনা’: মোদী
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৬:১৬
‘সরয়ূ নদীর তীরে স্বর্ণযুগের সূচনা হলো।’ অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনটিকে এভাবেই অভিহিত করলেন ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘বহু দিনের প্রতীক্ষা শেষ। এতদিন তাঁবুতে মাথা গুঁজে ছিলেন রামলালা। এ বার তার জন্য সুবিশাল মন্দির নির্মিত হবে। বহু শতক ধরে যে ভাঙা-গড়ার খেলা চলে আসছে, আজ রামজন্মভূমি তা থেকে মুক্ত হলো। সরযূ নদীর তীরে সূচনা হলো স্বর্ণযুগের।’
বুধবার (৫ আগস্ট) অযোধ্যায় ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন অযধ্যার একসময়ের মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোদী।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৯ বছর পর এদিন অযোধ্যায় পা রাখেন নরেন্দ্র মোদী। রামমন্দিরের শিলান্যাসের (ভিত্তিস্থাপন) দিনটিকে স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে তুলনা করেন তিনি। মোদী বলেন, ‘সারা দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিল। মন্দিরের জন্যও অনেকে বলিদান দিয়েছে। এতদিনে তাকে অপেক্ষা শেষ হলো। ১৫ অগস্ট যেমন স্বাধীনতার প্রতীক। আজকের দিনটি তেমনই ত্যাগ, সঙ্কল্প ও সংঘর্ষের প্রতীক।’
শুধু মাত্র ইন্ডিয়াতেই নয়, গোটা পৃথিবীতে আজ রামের জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন মোদী। তিনি বলেন, ‘আজ গোটা দেশ রামময়, রোমাঞ্চিত। পৃথিবীর সর্বত্র রামের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এই রামমন্দির আমাদের সংস্কৃতির আধুনিক প্রতীক। আমাদের রাষ্ট্রীয় ভাবনার প্রতীক। সারা পৃথিবীর মানুষ এখানে আসবেন। এই মন্দিরের মাধ্যমে বর্তমানের সঙ্গে অতীতের যোগসূত্র স্থাপিত হবে।’
রামমন্দিরের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাম আমাদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। সব কাজে রামই আমাদের প্রেরণা। আজ সারা দেশের মানুষ রামমন্দির নির্মাণে শরিক হয়েছেন। রামের চরিত্রের কেন্দ্রবিন্দু হলো সত্যপালন। জীবনের এমন কোনও ক্ষেত্র নেই যেখানে রাম আমাদের কাছে প্রেরণা নন। বহুর মধ্যে বৈচিত্রই ভারতের বৈশিষ্ট। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে তাই রামায়ণের ভিন্ন ভিন্ন গাথা রয়েছে। ভারতের বাইরেও বিভিন্ন দেশে রামায়ণ রয়েছে। সর্বত্রই রাম একইভাবে পূজনীয়।’
দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে রাম এতটাই জড়িয়ে যেকোনওভাবেই তাকে আলাদা করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন হিন্দুত্ববাদী বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা মোদী। তার কথায়, ‘রাম আমাদের মনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছেন উনি। প্রভূর কী অদ্ভূত শক্তি দেখুন, ইমারত নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তাতেও কিছু হয়নি। রামের অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়ার সবরকম চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু রাম আমাদের মনজুড়ে রয়েছেন। আমাদের সংস্কৃতির আধার তিনি।’
‘প্রত্যেকের মধ্যেই রাম রয়েছেন’
সমস্ত দেশবাসীর সমর্থন ছিল বলেই রামমন্দিরের নির্মাণের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলেও জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে মহাত্মা গান্ধী যেমন দলিত এবং জনজাতি মানুষের সমর্থন পেয়েছিলে, একইভাবে দেশের সমস্ত মানুষের সমর্থন ছিল বলেই রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করা গিয়েছে। প্রত্যেকেই রাম। প্রত্যেকের মধ্যেই রাম রয়েছেন।’
আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, করোনা পরিস্থিতিতে রামমন্দিরের নির্মাণ ঘিরে সমালোচনার মুখে পড়েছে মোদীর কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এদিন অনুষ্ঠানস্থলে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনেই অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মাস্ক পরেই ভূমিপূজায় অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘করোনার জন্য এই অনুষ্ঠান অন্যভাবে করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পরেই আমরা চিন্তা করেছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম, সবাই যেন শান্তিতে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন।’

