রাঙামাটিতে পিসিআর ল্যাব স্থাপন
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৯:৩০
দেশে করোনা মহামারি এখন কমতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। খুলে দেয়া হয়েছে সব অফিস আদালত। কমে গেছে করোনার নমুনা পরীক্ষার হার। সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা ইউনিট এখন প্রায় খালি হয়ে গেছে বলেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে রাঙামাটিতে বহুল প্রত্যাশিত করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে বিলম্বে হলেও পিসিআর ল্যাব চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবটি উদ্বোধন করেন করোনা প্রতিরোধে জেলাভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (বেপজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যবস্থাপনাসহ সার্বিক বিষয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতেও সভাপতিত্ব করেন পবন চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা প্রশাসক একেএম মামুুনুর রশীদ, পুলিশ সুপার আলমগীর কবির প্রমুখ।
পরে জেলা সিভিল সার্জন জানান, এখন নমুনা সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া সম্ভব হবে। প্রতি শিফটে ১০০ জন করে প্রয়োজনে ২০০ নমুনার পরীক্ষা করা সম্ভব একদিনে। এর ফলে এখন প্রতিদিনের ফলাফল প্রতিদিন পাওয়া যাবে বলে সিভিল সার্জন জানান। এছাড়া রাঙামাটির সব উপজেলার সংগৃহীত নমুনার ফলও এক দিনে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করছি- এর ফলে রাঙামাটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে। এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্থি ফিরে আসবে। নমুন পরীক্ষার ভোগান্তি কমবে রাঙামাটিবাসীর।
পবন চৌধুরী বলেন, পিসিআর ল্যাবটি রাঙামাটিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। রাঙামাটির উপজেলাগুলো দুর্গম হওয়ার কারণে নমুনার ফলাফল পেতে সময় লাগতো এতে করে সংক্রমণ হারও বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা ছিল। এই ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এখানকার জনগণ কোনও প্রকার হয়রানি ছাড়া দিনে দিনে করোনার পরীক্ষার ফলাফল পাবে।
এসময় টিকে গ্রুপের অর্থায়নে স্বাস্থ্য বিভাগকে একটি অ্যাম্বুলেন্সও উপহার দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বসুন্ধরা গ্রুপের ৬৯ লাখ টাকার অনুদানে রাঙামাটিতে স্থাপিত হয়েছে পিসিআর ল্যাবটি।

