দেশব্যাপী ভোক্তা অধিকারের ভেজাল অভিযান, জরিমানা আদায়
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ২১:৪২
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন জেলায় ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য, অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মানহীন ও ভেজাল পণ্য জব্ধ এবং অভিযুক্তদের অর্থদণ্ড দিয়েছে। বুধবার (১২) পাবনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, খুলনা, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এসব অভিযান পরিচালনা করে জেলা ভোক্তা অধিকার সংক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এতে সহযোগিতা করে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা। ভোক্তা অধিকারের প্রধান কার্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বুধবার দেশব্যাপী ভোক্তা অধিকারের অভিযানের সংবাদ নিম্নে তুলে ধরা হলো-
পাবনা: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (অতিরিক্ত সচিব) নির্দেশনায় পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ আব্দুস সালামের নেতৃত্বে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার জিগাতলা বাজার ও আলহাজ্ব মোড় এলাকায় বুধবার তদারকি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ভোক্তা অধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে অধিদপ্তরের প্রশাসনিক এখতিয়ারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারায় ১৪ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সদর উপজেলার সাধুপাড়া ও হেমায়েতপুর এলাকার আড়তগুলোতে কোরবানীর পশুর লবণযুক্ত চামড়া সংরক্ষণের দিকটিও তদারকি করা হয়। অভিযানের সময় দোকানীদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে, দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে ও সামাজিক-শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে কেনা-বেচা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। পৌরসভা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও ঈশ্বরদী থানা পুলিশের একটি টিম অভিযানে সহযোগিতা করেন।
রাজবাড়ী: রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে জেলা ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বুধবার সদর উপজেলার স্টেশন বাজার ও ধুনসি পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে স্টেশন বাজারের ২টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড করা হয় এবং ধনচী পুকুরপাড় এলাকায় চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ক্রয়-বিক্রয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সরাইল উপজেলার সরাইল বাজার ও প্রাত বাজার এলাকায় মনিটরিং করা হয়। এসময় ভোক্তা অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। এ সময় দোকানীদের দৃশ্যমাণ স্থানে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন, কারসাজি করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না করতে, পাইকারি ক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অনুরোধ করা হয়।
মাদারীপুর: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাদারীপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদাউসের নেতৃত্বে মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার শশিকর বাজারে তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও পণ্যের গায়ে কোনও তারিখ ও মূল্য না থাকায়, মূল্য তালিকা না থাকার অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয় ও স্পটে ধ্বংস করা হয়।
এছাড়া ইউনুছের চামড়ার আড়ত, ফজলগঞ্জ, কালকিনি মনিটরিং করা হয়েছে। চামড়া যথাযথ ভাবে সংরক্ষণ করেছে এবং এ চামড়া সরকারি দামে বিক্রি করবেন বলে জানিয়েছেন।
খুলনা: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলমের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরের হাজী মহসিন রোডে তদারকি করে নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে (২/৩ গুন বেশি) ডেটল/স্যাভলন/স্যানিটাইজার বিক্রয়ের দায়ে একুশে টেলিকমকে ৫ হাজার টাকা, গ্লাসকো মোড়ে মূল্য বিহীন ও মেয়াদ উত্তীর্ণ বিদেশি কসমেটিকস রাখায় বাপ্পি স্টোরকে ৪ হাজার, নোংরা পরিবেশ ও বাসী খাদ্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করায় দেশ বন্ধু ডেয়ারিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে সহযোগিতা করেন ৩ এপিবিএন ও ক্যাব প্রতিনিধি।
ফরিদপুর: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সদর উপজেলার নিউমার্কেটে ফল এবং টেপাখোলা বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানসমূহে অভিযান পরিচালনা করা হয়। ফলের দাম বেশি রাখা, মূল্য তালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা, গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসার লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং অবহেলা দ্বারা সেবাগ্রহীতার জীবনহানি ঘটতে পারে এমন গুরুতর অপরাধ করাসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে।
বাগেরহাট: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাগেরহাট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের নেতৃত্বে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফকিরহাট ও সিংগাতি বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ ও ফিজিসিয়ান স্যাম্পল বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষণ করার জন্য ৪টি ফার্মেসিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন- ২০০৯ অনুযায়ী জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। সেইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানো, ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অপরদিকে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করা এবং বাজারে অযথা ঘোরাঘুরি না করতে ভোক্তা সাধারণের প্রতি অনুরোধ করা হয়।
বগুড়া: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায়ের নেতৃত্বে বগুড়ার কাহালু উপজেলার ভালতা এলাকা ও রাজধানী মুরইল বাজার এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা-অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। এছাড়াও অন্যান্য পণ্য ন্যায্য মূল্যে বিক্রিসহ ব্যবসায়ীদের মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নাটোর: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নাটোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শামসুল আলমের নেতৃত্বে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর বাজার ও নাড়িবাড়ি বাজার এলাকায় বাজার তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৩৮ ও ৪৩ ধারা মোতাবেক ৩টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
সুনামগঞ্জ: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে জগন্নাথপুর বাজার এলাকায় মনিটরিং করা হয়। এসময় ভোক্তা অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। এ সময় দোকানীদের দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন, কারসাজি করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না করতে, পাইকারি ক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অনুরোধ করা হয়।
অভিযানে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন র্যাব ৯ এর একটি টিম।
সিরাজগঞ্জ: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইল বাজার ও ষোলমাইল বাজার এলাকায় মনিটরিং করা হয়। এসময় ভোক্তা অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। তাছাড়া পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করছে কিনা পর্যবেক্ষণ এবং তিনটি পরিনহনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
নওগাঁ: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: শামীম হোসেনের নেতৃত্বে নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার ঢাকা বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সাপাহার হতে ঢাকাগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস কে অতিরিক্ত ভাড়া ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অভিযোগকারী ভোক্তাকে জরিমানার ২৫% প্রদান করা হয় । এছাড়া অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্য পণ্য তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের কারণে ১টি বেকারী ও ১টি হোটেলকে মোট ৯ হাজার টাকা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর অধীনে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
কুষ্টিয়া: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জেলার সদর উপজেলার বড় বাজার, এনএস রোড, কবি আজিজুর রহমান সড়ক ও বাবর আলী গেট এলাকায় তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনাকালে খাদ্যপণ্যে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণরোধ, অবৈধ প্রক্রিয়ায় পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ রোধসহ, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য এবং অননুমোদিত ও অবৈধ পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এছাড়াও এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার এবং চামড়া ব্যবসায়ী সমিতি’র অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রয়-বিক্রয় করার অনুরোধ জানানো হয়। কার্যক্রম পরিচালনাকালে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারার লঙ্ঘনজনিত বিভিন্ন অপরাধে ২টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
নেত্রকোণা: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নেত্রকোণা জেলা কার্যালয় জেলার সদর উপজেলার বড় ও ছোট বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ও মেয়াদবিহীন পণ্য বিক্রয়ের জন্য সংরক্ষণ করায় একাধিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্য তালিকা টাঙানো, ন্যায্য মূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। অপরদিকে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাকাটা করা এবং বাজারে অযথা ঘোরাঘুরি না করতে ভোক্তা সাধারণের প্রতি অনুরোধ করা হয়।
যশোর: ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ ওয়ালিদ বিন হাবিবের নেতৃত্বে সদর উপজেলার গোয়ালদহ ও বাগেরহাট বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও মূল্য তালিকা না থাকার অপরাধে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ৮ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
ভোক্তা অধিকারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি অভিযানেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, পশুর চামড়া হাট তদারকি করা হয়েছে। তাছাড়া জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

