ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া ‘ফুয়েল সারচার্জ’ মাশুল বাড়াল বিকডা

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া ‘ফুয়েল সারচার্জ’ মাশুল বাড়াল বিকডা

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১১:৫০

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো প্রকারের সমন্বয় ছাড়া ‘ফুয়েল সারচার্জ’ মাশুল বাড়িয়েছে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো মালিকদের সংগঠন বিকডা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে ফুয়েল সারচার্জের সাড়ে ৮ শতাংশ মাশুল বাড়ানো হয়। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) স্টেক হোল্ডারদের কাছে এ সংক্রান্ত এক চিঠি পাঠানো হয়। মূলত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সময় রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে নতুন নির্ধারিত মাশুল কার্যকরের কথা জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত অংশ হিসেবে কাজ করে ২১টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো বা অফডক কর্তৃপক্ষ। রপ্তানি পণ্যের শতভাগ আর ৬৪ ক্যাটাগরির আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয় এই অফডকগুলোতে। বছরে গড়ে ৩ লাখ আমদানি ও সাড়ে ৭ লাখ রপ্তানি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয় বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে।

স্টেক হোল্ডারদের দাবি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যস্ততায় স্টেক হোল্ডারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ট্যারিফ কমিটি এসব অফডকের মাশুল নির্ধারণ করে থাকে। কোনো কারণে মাশুল বাড়াতে বা কমাতে হলে এই ট্যারিফ কমিটির অনুমোদন নিয়ে তা বাস্তবায়ন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ট্যারিফ কমিটি কিংবা আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই মাশুল বাড়ানোর চিঠি পাঠায় বিকডা।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে বিকডার আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে উদ্বিগ্ন হয় পড়েছে তৈরি পোশাকখাতের উদ্যোক্তা এবং কনটেইনার-নির্ভর আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে জড়িতরা। বিজিএমইএসহ আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা এনিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তাদের দাবি স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করে ট্যারিফ নির্ধারণ কমিটির অনুমোদন ছাড়া একতরফা ভাবে মাশুল বাড়ানোর কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জাতীয় অর্থনীতিতে। ট্যারিফ নির্ধারণ কমিটির অনুমোদন ছাড়া বিকডা এটি করতে পারে না। এর ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা বাণিজ্যে অস্থিরতা বাড়বে।

তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক ও ইন্ডিপেনডেন্ট গার্মেন্টসের মালিক এসএম আবু তৈয়ব বলেন, বিকডা স্বতন্ত্র সত্তা নয়। আইসিডি বন্দরের একটি অংশ। ওনারা স্টেক হোল্ডার সমন্বয় না করে তারা এটা করতে পারে না। স্টেক হোল্ডার, বন্দর, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা না করে হঠাৎ করে জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করেছে এটি উঠিত হয়নি। এতে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা উদ্বিগ্ন। এমনিতেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাত। আশাকরি, বিকডা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন করে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবে।

অফডকের সবচেয়ে বড় স্টেক হোল্ডার বিজিএমইএ’র সাবেক সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী জানান, বিশ্ববাজারে দেড় মাস আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার দাম বাড়িয়েছে মাত্র দুই দিন আগে। দেশের আর কোনো সেক্টর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার এই অজুহাতকে এত দ্রুত কাজে লাগাইনি। কিন্তু অফডক কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টা যাওয়ার আগেই মাশুল বাড়ানোর যে চিঠি দিয়েছে এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়া একতরফাভাবে ভাড়া বাড়ানোর এই ঘটনা দেশের বাজারে আরেকদফা অস্থিরতা তৈরি করবে।

অন্য দিকে বিকডার দাবি করছে মাশুল নয়, তেলের দাম বাড়ার কারণে ফুয়েল সারচার্জ আরোপ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

এনিয়ে বিকডার সেক্রেটারি রুহুল আমিন শিকদার জানান, অফডক পরিচালনায় যে সব মেশিনারিজ চলে তার সবগুলোই জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। ডিপো থেকে বন্দরে কনটেইনার জাহাজিকরণ করা হয় লরি দিয়ে সেগুলোও ডিজেলে চলে। বৈশ্বিক সংকটের কারণে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকার কাছাকাছি বাড়িয়ে দিয়েছে। সবগুলো অফডক মিলে দৈনিক ৬৫ থেকে ৭০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়। এতে অফডক পরিচালনা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, এতবড় ধাক্কা অফডক কর্তৃপক্ষ এককভাবে সামলাতে পারবে না। তাই বাধ্য হয়ে বর্ধিত জ্বালানি তেলের একটি অংশ হিসেব করে মাত্র সাড়ে ৮ শতাংশ ‘ফুয়েল সার চার্জ’ আরোপ করা হয়েছে। এখানে মাশুল বাড়ানো হয়নি। এরপরও অফডক কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের লোকশান গুণতে হবে। ট্যারিফ কমিটি কিংবা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করা প্রসঙ্গে রুহুল আমিন শিকদার বলেন হঠাৎ করে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় অপারেশন অব্যহত রাখার স্বার্থে ফুয়েল সার চার্জ আরোপ করতে হয়েছে। আর ট্যারিফ কমিটি গঠন করা হয়েছে অনেক আগে কিন্তু সেটা কখনোই কার্যকর হয়নি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading