মালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী সেনারা, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আটক

মালির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহী সেনারা, প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী আটক

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১০:১৫

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে বিদ্রোহী সেনারা। এর আগে বিদ্রোহী সৈন্যরা রাজধানী বামাকো থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি সামরিক ঘাটি, কাটি ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। মালির সেনাদের মধ্যে বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ এবং জিহাদিদের সঙ্গে অব্যাহত লড়াই নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। সেই সঙ্গে সাবেক প্রেসিডেন্টের ওপরেও অনেকে সন্তুষ্ট নন।

মঙ্গলবার দুপুরের পর তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে পড়ে এবং সেখানে থাকা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী- দুইজনকেই গ্রেপ্তার করে। প্রেসিডেন্টের ছেলে, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অর্থমন্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে এই বিদ্রোহে দেশটির কতো সৈনিক অংশ নিয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সামরিক বাহিনীর একটি অংশের হাতে আটক হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বোউবাকার কেইতা পদত্যাগ করেছেন। টেলিভিশন ভাষণে তিনি সরকার ও পার্লামেন্ট বিলুপ্ত বলে ঘোষণা করেছেন।

ওই টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বলেছেন, ‘আমাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য কোনরকম রক্তপাত হোক, সেটা আমি চাই না। যদি আজ আমাদের সেনাবাহিনীর একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজেদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সমাপ্তি টানতে চায়, আমার সামনে কি সত্যিই আর কোন বিকল্প আছে?’

২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হন ইব্রাহিম, কিন্তু দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় তার ওপর অনেকের ক্ষোভ তৈরি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রক্ষণশীল মুসলমান ইমাম মাহমুদ ডিকো নেতৃত্বাধীন নতুন একটি জোট দেশে সংস্কারের দাবি তুলেছে। তাকে ইব্রাহিম যৌথ সরকার গঠন করাসহ নানা প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মালির কাটি সামরিক ঘাটির ডেপুটি কমান্ডার কর্নেল মারিক ডিয়াউ এবং জেনারেল সাদিও কামারা এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। বামাকো থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এই সামরিক ঘাটির দখল নেওয়ার পর বিদ্রোহী সেনারা রাজধানীতে চলে আসে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে জমায়েত হওয়া লোকজন তাদের স্বাগত জানায়।

২০১২ সালেও কাটি সামরিক ঘাটিতে বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছিল যখন জিহাদিদের ঠেকাতে সিনিয়র কমান্ডারদের ব্যর্থতা আর উত্তর মালিতে তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল সেনারা। -বিবিসি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading