কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো সেই মা-মেয়ের জামিন

কোমরে দড়ি বেঁধে ঘোরানো সেই মা-মেয়ের জামিন

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৯:৫০

কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চুরির মামলায় গ্রেপ্তার সেই মা ও দুই মেয়েকে জামিন দিয়েছে আদালত, যাদের কোমরে দড়ি বেঁধে প্রকাশ্যে ঘোরানো হয়েছিল। সোমবার (২৪ আগস্ট) চকরিয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাজিব কুমার দেব মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক।

তিনি জানান, জামিন পেয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের ৫৫ বছর বয়সী এক নারী ও তার ২৮ ও ২৫ বছর বয়সী দুই মেয়ে। আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, আদালতের শুনানি শেষে মা-মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দিলেও দুই পুরুষ আসামির জামিন দেয়নি।

এরা হলেন- পটিয়া উপজেলার শান্তিরহাট কুসুমপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদ আরমান (৩০) ও কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ ছুট্টু (৩৮)। গরু চুরির অভিযোগে গত শুক্রবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাংয়ের দক্ষিণ পহরচাঁদা এলাকায় মা-মেয়েসহ এক পরিবারের চারজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে প্রকাশে ঘোরানো হয়। শনিবার ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়। রবিবার জেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে একটি ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে।

এর আগে, গরু চুরির অভিযোগে পহরচাঁদার মাহমুদুল হক বাদী হয়ে ওই মা-মেয়েসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চকরিয়া আদালতে মামলা করেছেন। সেই মামলায় তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছিল আদালত।

আইনজীবী ওমর ফারুক জানান, মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম রাজিব কুমার দেব। একই ঘটনায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।

মা-মেয়েকে বেঁধে প্রকশ্যে ঘুরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে ঢোকানো হলেও ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরান তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মিরানুলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই তাকে চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading