খালেদার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়তে পারে

খালেদার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়তে পারে

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ১৭:৫০

দুর্নীতির দুই মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর অভিমত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে তার বাসায় থেকে চিকিৎসা নেয়ার পুরোনো শর্তে সাজা আরও ৬ মাসের জন্য স্থগিত করার পক্ষে এই মত আইন মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া হয়েছে। এমন খবর দিয়েছে বিবিসি বাংলা।

এর আগে খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আবেদনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে তার মুক্তি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় স্থায়ী মুক্তির আবেদন বিবেচনা করেনি। এছাড়া বিএনপি নেত্রীকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর বিষয়ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। তবে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে পরিষ্কারভাবে তারা এই আবেদনে চান নাই। এছাড়া তারা স্থায়ী মুক্তির আবেদন করেছিলেন। সেখানে আমরা আইনগত দিক থেকে সাজা ৬ মাস স্থগিত করে এই সময় পর্যন্ত তার মুক্ত থাকার মেয়াদ বাড়ানোর মতামত দিয়েছি।’ তিনি বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের এই মতামত তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি পাঠানো হবে।

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মার্চ শর্ত সাপেক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য সরকার খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়। খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় ২ বছরের বেশি সময় জেল খাটার পর সেই দিনই মুক্তি পেয়েছিলেন। তিনি এখন যে মুক্ত আছেন সেই মুক্তির মেয়াদ চলতি মাসের ২৪ তারিখে শেষ হতে হওয়ার কথা। সেই প্রেক্ষাপটে গত ২৫ অগাস্ট শামীম ইস্কান্দার পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিলেন। এখন সেই আবেদনের ওপর আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত পাঠালো।

আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এটি প্যারোল বা জামিন মুক্তি নয়। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সরকারের যে ক্ষমতা রয়েছে সেই ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত করে এই মুক্তির বিষয় এসেছে।
২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।

দশ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে আরও একটি দুর্নীতির মামলায় বিচারিক আদালত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দুর্নীতিবাজ সাাব্যস্ত করে ৭ বছরের দণ্ড দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে একটি মামলা হাইকোর্টে এবং অপরটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading