ইউএনও’র ওপর হামলায় আটক ৪, নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া ৩ জনই যুবলীগের
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ১৯:৩৫
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিল এমন দু’জনকে ধরা হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ। তবে এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে মোট ৪ জন, তাদের মধ্যে ৩ জনই যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মী। অবশ্য গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম এবং তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় যে চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে- তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে দু’জন সরাসরি হামলায় সম্পৃক্ত ছিল বলে জানিয়েছেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর পরিচালক আশিকা বিল্লাহ। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রংপুর র্যাবের কার্যালয়ে এখনও ওই চারজনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে তিনি জানান।
গত বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি ভবনে ঢুকে হামলা চালায় দুষ্কৃতিকারীরা। ঘটনার পর পর তদন্তে নামে র্যাব ও পুলিশের যৌথ দল। বৃহস্পতিবার দিনাজপুর ডিবি গোয়েন্দা পুলিশ ইউএনও’র বাসভবনের নৈশ প্রহরী পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এরপর তারা গোপন খবরের ভিত্তিতে ঘোড়াঘাট থেকে জাহাঙ্গীর ও মাসুদ রানা নামে আরও দু’জনকে শুক্রবার ভোরে এবং সন্দেহভাজন প্রধান আসামি আসাদুল হককে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নৈশ প্রহরী পলাশ ছাড়া বাকি তিনজনকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করা হয়। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে এর মধ্যে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে এরইমধ্যে রংপুর বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় ইউএনওদের নিরাপত্তায় ১০ জন করে অস্ত্রধারী আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এছাড়া সারাদেশে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও কর্মকর্তার নিরাপত্তায় ৪ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে ঘোড়াঘাটের
ঘটনার পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। একই কথা বলেছেন সরকারের সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ।
এদিকে হামলার ঘটনার পর বেরিয়ে আসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া জাহাঙ্গীর আলম যুবলীগের আহ্বায়ক, আসাদুল হক যুবলীগের সদস্য এবং মাসুদ রানা ঘোড়াঘাট সিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। এরমধ্যে দিনাজপুর জেলা যুবলীগ মাসুদ রানাকে বহিস্কার করেছে এবং কেন্দ্র থেকে বাকি দুইজনকে বহিস্কার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, হয়রানি, মাদক ব্যবসা ও সেবনের অভিযোগ আনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান, দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদ পারভেজ। তিনি বলেন, তাদেরকে আর কখনও আওয়ামী লীগের কোনও অঙ্গসংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হতে দেয়া হবে না।
হামলার ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার অজ্ঞাতদের আসামি করে ঘোড়াঘাট থানায় মামলা করেন ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ভাই।

