মসজিদে বিস্ফোরণের কারণ উদঘাটনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। আপডেট: ১৭:৩৭
যথাযথ অনুমোদন না নিয়ে, নকশা না মেনে যেখানে সেখানে ইমারত গড়লে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকার পরও মসজিদে মসজিদে অপরিকল্পিতভাবে এয়ারকন্ডিশনার (এসি) বসানো হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যে বাড়বে, সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারায়ণগঞ্জের এক মসজিদে ‘এসি বিস্ফোরণে’ হতাহতের ঘটনায় রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় এ বিষয়ে কথা বলেন সরকারপ্রধান।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে মসজিদে যে বিস্ফোরণটা ঘটল, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা সেখানে গেছেন, নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এই ঘটনাটা কেন ঘটল, কীভাবে ঘটল, সেটার ব্যাপারে তদন্ত হচ্ছে। আমি মনে করি- সেটা অবশ্যই বের হবে।’
গতহ শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় ৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে একসঙ্গে ‘বিস্ফোরণ ঘটে’ বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সে সময় মসজিদে থাকা অর্ধশতাধিক মুসল্লি- সবাই কমবেশি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে যে ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল, তাদের ২৪ জন মারা গেছেন।
দেশব্যাপী আলোচিত ওই ঘটনা প্রসঙ্গে একাদশ সংসদের ৯ম অধিবেশনের শুরুর দিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে নামাজ পড়া অবস্থায় মসজিদে এই ধরনের একটা বিস্ফোরণ হলো। যেখানে ওইটুকু একটা জায়গায় ৬টা এসি লাগানো… আবার শোনা যাচ্ছে ওখানে গ্যাসের লাইনের উপরেই নাকি এই মসজিদটা নির্মাণ। সাধারণত যেখানে গ্যাসের পাইপলাইন থাকে সেখানে কিন্তু কোনো নির্মাণ কাজ হয় না। আমি জানি না… এটার পারমিশন দিয়েছে কিনা। কারণ, এই ধরনের পারমিশন তো দিতে পারে না, দেওয়া উচিত না। এটা সব সময়ই খুব… মানে একটা আশঙ্কাজনক (অবস্থায়) থাকে। তো সেটাই এখন তদন্ত করে দেখা হবে, যে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটলো।’
এ ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, তিতাস গ্যাস, ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশন আলাদা পাঁচটি কমিটি গঠন করেছে।
সংসদনেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘মসজিদে এখন সবাই দান করে। আজকাল তো সকলের পয়সাও আছে। এয়ারকন্ডিশনার দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহটা বা বিদ্যুৎ লাইন কতটা নিতে পারবে সেই ক্যাপাসিটি ছিল কিনা… সার্কিট ব্রেকার ছিল কিনা বা এইসব বিষয়গুলো কিন্তু দেখতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে কিছু করতে গেলে দুর্ঘটনা অবশ্যই ঘটতে পারে।’
মসজিদে বিস্ফোরণের ওই ঘটনা কেন ঘটেছে, তা খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশেই মসজিদগুলোতে যারা অপরিকল্পিতভাবে ইচ্ছেমত… মানে এয়ারকন্ডিশনার লাগাচ্ছেন, বা যেখানে সেখানে একটা মসজিদ গড়ে তুলছেন, সে জায়গাটা আদৌ একটা স্থাপনা করবার মত কিনা, বা যথযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া বা সেভাবে নকশাগুলো করা হয়েছে কিনা- সে বিষয়গুলো কিন্তু দেখা একান্ত প্রয়োজন। নইলে এ ধরনের দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে।’
সরকারপ্রধান বলেন, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ডা. সামন্ত লালের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। রোগীর অবস্থা সম্পর্কেও তিনি নিয়মিত খোঁজ রাখছেন। অনেকজন এ পর্যন্ত মারা গেছেন এবং বাকি যারা… তাদের বেশিরভাগের পোড়ার অবস্থা এত খারাপ, তারপরও চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের সব ধরনের চিকিৎসার আমরা ব্যবস্থা করেছি। এখন আল্লাহ যদি এদের জীবনটা দিয়ে যান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয় এবং মৃতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।

