অপহৃত জিনিয়া উদ্ধার, লোপা তালুকদার রিমান্ডে
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। আপডেট ২০:৪০
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার পথশিশু জিনিয়াকে অপহরণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার নূর নাজমা আক্তার ওরফে লোপা তালুকদারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ৯ বছরের ওই শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার লোপা তালুকদারকে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।
শাহবাগ থানায় শিশুটির মায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লোপাকে ৭ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নিভানা খায়ের জেসি দুদিন হেফাজতের আদেশ দেন। অন্যদিকে জিনিয়াকে তার মা সেনুরা বেগমের জিম্মায় দেন ঢাকা মহানগর হাকিম ইলিয়াস মিয়া।
গত ১ সেপ্টেম্বর টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফটকে অপরিচিত দুজন নারীর সঙ্গে ফুচকা খাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিল জিনিয়া। ট্রাকচালক স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর ৭ বছর আগে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে জিনিয়াসহ ৩ সন্তানকে নিয়ে টিএসসি এলাকায় আসেন সেনুরা।
দুই মেয়ে সিনথিয়া (৭), জিনিয়া (৯) ও ছেলে পলাশকে (১৭) নিয়ে টিএসসি বারান্দায় রাত কাটান তিনি। দিনের বেলা ফুল বিক্রি করে মায়ের সংসারে জোগান দেয় জিনিয়া ও সিনথিয়া। আর পলাশ এখন একটা চায়ের দোকানে কাজ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা টিএসসিতে যাদের আনাগোনা, তাদের অধিকাংশেরই চেনা মিষ্টি হাসির দুই শিশু সিনথিয়া-জিনিয়াকে। জিনিয়া নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির খোঁজে সরব হয়ে ওঠেন। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে মেয়েকে না পেয়ে ২ সেপ্টেম্বর সেনুরা বেগম শাহবাগ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি অপরিচিত দুই নারীকে ঘিরে সন্দেহের কথা বলেন। সোমবার ওই জিডি অপহরণ মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।
এরপর সোমবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিনিয়াকে উদ্ধার এবং লোপা তালুকদারকে (৪২) গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ডিবির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম সাংবাদিকদের বলেন, লোপা তালুকদার ‘অসৎ উদ্দেশ্যে’ প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটিকে নিয়ে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, লোপা তালুকদারের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায়। তার বিরুদ্ধে গলাচিপায় হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্র বলছে, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ঢাকাতে থাকেন। এর আগে গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। লোপা একাধিক বিয়ে করেছেন। কিন্তু তার সংসার স্থায়ী হয় না। পটুয়াখালী ও ঢাকায় বেশ কিছুদিন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে লোপা তালুকদারের বিরুদ্ধে। নানা কারণে তিনি পটুয়াখালী ও গলাচিপায় সর্বমহলে বেশ আলোচিত বলেও জানা গেছে।

