শফী-বাবুনগরীর দ্বন্দ্ব, হাটহাজারী মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট ১১:৩০
হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফীর মাদ্রাসায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে আহমদ শফীর বিরুদ্ধে জুনায়েদ বাবুনগরীর সমর্থক ছাত্ররা বিক্ষোভ করেন বুধবার। এর পর থেকেই মাদ্রাসাটিতে দুই গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিক্ষোভ থেকে মাদ্রাসায় আহমদ শফীর সমর্থক শিক্ষকদের দু’জনের ওপর হামলা এবং অফিস কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, বিক্ষোভকারীরা আহমদ শফী এবং তার ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে সরে যাওয়ার দাবি তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক জুনায়েদ বাবুনগরীর সমর্থক ছাত্ররা গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর মাদ্রাসায় বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভকারীরা মাদ্রাসাটির প্রধান বা পরিচালক আহমদ শফীর বিরুদ্ধে নানান শ্লোগান দেন। আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাদানীও মাদ্রাসাটির শিক্ষক।
বিক্ষোভকারীরা আনাস মাদানীসহ আহমদ শফীর সমর্থক কয়েকজন শিক্ষকের কক্ষ ভাঙচুর করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তারা বলেন, আল্লামা শফীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাদ্রাসারটির শিক্ষক মঈনউদ্দিন রুহীর ওপর হামলা করেছে বিক্ষোভকারীরা। ওই বিক্ষোভের সময় আহমদ শফী মাদ্রাসায় তার অফিসে ছিলেন বলে জানা গেছে।
হাটহাজারী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মাকসুদ আলম জানিয়েছেন, দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে বিক্ষোভ হয়। আর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আবাসিক কওমী মাদ্রাসাটিতে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। মাকসুদ আলম আরও জানিয়েছেন, জুনায়েদ আহমেদ বাবুনগরীর সমর্থক বিক্ষোভকারী ছাত্ররা মাদ্রাসায় বুধবার রাত ১১টা পর্যন্ত অবস্থান করে। চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হাসান বলেছেন, তার নেতৃত্বে পুলিশ মাদ্রাসার বাইরে অবস্থান নিয়ে ছিল। রাত ১১টার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতে এই বিক্ষোভের মুখে মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটির বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকে জুনায়েদ আহমদ বাবুনগরীর সমর্থক শিক্ষকরাই মূলত উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠক থেকে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে মাদ্রাসার শিক্ষকের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং তা সেখানে ঘোষণা করা হলে রাত ১১টার পর বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচি শেষ করেন।
এই কমিটি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আবার বৈঠকে বসবে বলে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ৬ দফা দাবি সম্বলিত একটি লিফলেটও সেখানে বিলি করেছিল। সেই লিফলেটে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কারের দাবি করা হয়। এটিই তাদের এক নম্বর দাবি। এছাড়াও আহমদ শফীকে মাদ্রাসার প্রধান বা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবিও উঠেছে।
আহমদ শফীর সমর্থক একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, বাবুনগরীর সমর্থক শিক্ষকরা বহিরাগত কিছু লোক মাদ্রাসায় এনে একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করে মাদ্রাসার দখল নিয়েছিল। এই উত্তেজনা সৃষ্টিকারীরাই নিজেরা বৈঠক করে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার করাসহ নানা রকম সিদ্ধান্তের কথা বলেছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জুনায়েদ বাবুনগরীর সমর্থক একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, মাদ্রাসায় নানা অনিয়মের কারণে চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে মাদ্রাসার ছাত্ররাই বিক্ষোভ করেছে।
৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর এই মাদ্রাসা কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফী এবং মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী- দুজনই এই মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিচালক ছিলেন। কিন্তু আহমদ শফী এবং জুনায়েদ বাবুনগরীর মধ্যে মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। আহমদ শফীর বয়স একশ বছরের বেশি হয়েছে। মাদ্রাসাটিতে তার পরেই জুনায়েদ বাবুনগরীর অবস্থান ছিল। কিন্তু কয়েকমাস আগে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীর নেতৃত্বে তার সমর্থকরা পরিচালনা কমিটির বৈঠক করে বাবুনগরীকে মাদ্রাসার সহকারী পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তখন দুটি গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। তথ্য সহায়তা বিবিসি।

