হেফাজত আমির আল্লামা শফী আর নেই
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট ১৯:২০
আলোচিত হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় আজগর আলী হাসপাতালের আইসিইউ’তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হেফাজত নেতা মুফতি ফয়জুল্লাহ- আমিরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আল-জামিয়াতুল তাহলিমা দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
আহমদ শফী আলোচনায় আসেন ২০১১ সালে। ওই বছর নারী উন্নয়ন নীতিমালা করার পর এর বিরোধিতা করে চট্টগ্রামে কর্মসূচি ডাকেন তিনি। যদিও ওই আন্দোলনে দৃশ্যত বিক্ষোভ-প্রতিবাদে বেশি কার্যকর ছিলেন ঢাকার আলেমরা। পরে ২০১৩ সালে ব্লগার রাজীব হায়দারের (থাবা বাবা) ব্লগিংকে কেন্দ্র করে সারাদেশেই বিক্ষোভে নামে কওমি মাদ্রাসার আলেম ও শিক্ষার্থীরা। তবে ঢাকায় জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের আলেমদের অনুপস্থিতিতে পুরো দেশের আলেম সমাজের নেতৃত্বে চলে আসেন আহমদ শফী।
সারাদেশে আলোচিত আল্লামা আহমদ শফী ১৯২০ সালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার পাখিয়াটিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বলে জানান হেফাজত নেতা মাওলানা ইসলামাবাদী। তিনি জানান, ১০ বছর বয়সে হাটহাজারী মাদ্রাসায় ভর্তি হন তিনি। ১৯৪১ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হয়ে ৪ বছর হাদিস, তাফসির, ফিকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে দাওরায়ে (কওমী মাদ্রাসার সর্ব্বোচ্চ ডিগ্রি) হাদিস সমাপ্ত করেন। ১৯৪৬ সালে দারুল উলুম হাটহাজারীতে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানের মজলিসে শূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে শায়খুল হাদিসের দায়িত্বও তিনি পালন করেন।
২০০৮ সালে তিনি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-বেফাকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি দারুল উলুম হাটহাজারী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওলামা সম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গঠন করা হয়। তিনিই এর প্রতিষ্ঠাতা আমির মনোনীত হন। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের ডাকা আন্দোলনের মূলহোতা তিনিই ছিলেন। যদিও তিনি চট্টগ্রাম থেকে হেলিকপ্টারে এসে ওই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে না পেরে ফিরে যান। অভিযোগ আছেন, তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে কাজ করে হেফাজতে ইসলাম। পরে সরকারের কঠোর পদক্ষেপে তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তবে ১১ এপ্রিল ২০১৭ সালে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে এমএ (আরবি-ইসলামিক স্টাডিজ)-এর সমমান ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়ে ও একাধিক নাতি, নাতনি রেখে গেছেন। আল্লামা আহমদ শফী কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, আল হাইয়াতুল উলইয়া’র চেয়ারম্যান ও আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের সভাপতি। তথ্য সহায়তা বাংলাট্রিবিউন।

