পেঁয়াজে পচন : বস্তা খুলে ফেলে দিচ্ছেন নদীতে
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট : ১৯:৫০
পেয়াজে পচন তাই বস্তা খুলে ফেলতে হচ্ছে নদীতে। বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছেন ইন্ডিয়ার রফতানিকারকরাও। কারণ (ইন্ডিয়ার) তাদের সরকারের অনুমোদন না মেলায় দীর্ঘ ৯ দিন ধরে হিলি সীমান্তের ইন্ডিয়ার অংশে দাঁড়িয়ে থাকা পেঁয়াজবাহী ট্রাকগুলোকে সরিয়ে নিয়েছেন। বেশ কিছুদিন আটকে থাকার কারণে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হওয়ায় এমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যে তারা সব বস্তা নিজেদের গুদামেও তুলতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন নদীতে। বাংলাদেশে অন্য পণ্য নিয়ে আসা এক ট্রাকচালকের দাবি, এমন অন্তত ১২০টি পেঁয়াজবাহী ট্রাক ওপারে দাঁড়িয়েছিল যেগুলো এখন খালাস করছেন রফতানিকারকরা।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে কোনও পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশ করেনি। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করে ভারত, পরের দিন থেকে আবারও পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় তারা। তবে কেবল ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ৪ থেকে ৫টি করে ট্রাক প্রতিদিন প্রবেশ করছে বলে জানা গেছে।
ইন্ডিয়ার ট্রাকচালক সুশীল কুমার বলেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরে হিলিতে ছোট পার্কিং ও বালুপাড়া এরাকার বড় পার্কিংয়ে ১২০টির মতো পেঁয়াজবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকদিন আটকা থেকেও রফতানি না হওয়ায় গরমে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজগুলো পচতে শুরু করে। এগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এ অবস্থায় ট্রাকগুলো সরিয়ে নিয়ে গিয়ে রফতানিকারকরা তাদের গুদামে পেঁয়াজ নামাচ্ছেন বা বিভিন্ন মোকামে বিক্রি করছেন। অনেক পেঁয়াজ এমন খারাপ হয়ে গেছে যে নদীতে ফেলে দিচ্ছেন।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, রফতানি বন্ধের পাঁচ দিন পর ভারত ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করে যার অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ পচা, নষ্ট ছিল। এসব পেঁয়াজ দিয়ে পানি ঝরছিল। কিছু পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলেও অনেক পেঁয়াজ ফেলে দিতে হয়েছে। এতে করে ওই ১১ ট্রাক পেঁয়াজে অর্ধকোটি টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে আমাদের। কিন্তু আটকে থাকা বাকি ট্রাকগুলো তারা রফতানি করতে পারেনি। ইতোমধ্যে সেই পেঁয়াজের অবস্থা আরও খারাপ, ভ্যাপসা গরম ও অতিবৃষ্টির কারণে ৭৫ ভাগের বেশি পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে হয়তো তারা ওগুলো ট্রাক থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। তবে আমাদের যে দশ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি দেওয়া রয়েছে সে বিষয়েও তারা কোনও সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে আমরা তাদেরকে এসব এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ রফতানির বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করে আসছি।

