রেললাইনে বসে মোবাইল গেম: আবারও এক কিশোরের প্রাণহানি
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ১২:২৮
নাটোরের লালপুরে অতিরিক্ত মোবাইল গেম আসক্তিতে ফারুক হোসেন (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাওড়া-বৃষ্টপুর রেললাইনে ঈশ্বরদীগামী একটি মালবাহী ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
নিহত ফারুক উপজেলার বাওড়া গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে এবং গোপালপুর পৌর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ছাত্র। তিনি এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
জানা যায়, রাতে উপজেলার গোপালপুর রেলগেটের রাস্তার ওপর মাথাবিহীন টুকরো টুকরো একটি মরদেহ পাওয়া যায়। ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে এক কিলোমিটার দূরে বিচ্ছিন্ন মাথা ও একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এতে মরদেহটি ফারুকের বলে শনাক্ত হয়।
নিহত ফারুকের বাবা বাচ্চু মিয়া জানান, বাড়ির পাশে রেললাইন হওয়ায় সন্ধ্যায় ফারুক রেললাইনে বসে চার বন্ধুর সঙ্গে মোবাইলে গেম খেলছিল। পরে রাত হওয়ায় বন্ধুরা চলে গেলেও ফারুক সেখানে বসেই গেম খেলতে থাকে। রাতে ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন বাচ্চু মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, বাওড়া-বৃষ্টপুর রেলওয়ে স্থানীয় তরুণদের কাছে ‘ফ্রি ফায়ার জোন’। বিকেল থেকে রেললাইনের ওপর সারি সারি বসে মোবাইলে গেমে মেতে ওঠে স্থানীয় তরুণরা।
লালপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যেহেতু ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে, তাই এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে এর আগে গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রেললাইনে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায় ওয়ালিদ হোসেন বিদ্যুত নামে এক কিশোর।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সে আলমডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে রেললাইনে বসে মোবাইল ফোনে গেম খেলছিল। এ সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেসের ধাক্কায় সে রক্তাক্ত জখম হয়।
তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে আলমডাঙ্গার পপুলার মেডিকেল সেন্টার ও পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

