জন্মদিনের আগে মুখোমুখি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৫:৫৫
প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর ‘উৎসব’-এ আক্ষরিক অর্থেই উৎসব লেগে থাকত। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিনে তার বাড়িতে ভিড় জমাতেন শুভানুধ্যায়ীরা। তার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলে, কাছে টেনে জড়িয়ে ধরতেন ইন্ডাস্ট্রির বুম্বাদা। এ বার সে সবের কিছুই হচ্ছে না। নায়কের কি তাতে মন খারাপ? ‘‘মন ভাল রাখার মতো কি কিছু ঘটছে? একে তো করোনা, তার উপরে পরপর মৃত্যুসংবাদ। এতে সেলিব্রেশনের মানসিকতা থাকে?’’ পাল্টা প্রশ্ন প্রসেনজিতের।
লকডাউনের শুরুর দিকে যতটা মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন, তার থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসেছেন। বুঝতে পেরেছেন মন খারাপ করলেও, সব ছেড়েছুড়ে বসে থাকলে চলবে না। ‘‘আমি কাজের মানুষ। চুপচাপ বসে থাকতে পারি না। সাউথ আফ্রিকা থেকে ফিরে শিবুর (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) ছবির শুট ছিল। তার পর মুম্বইয়ের ওয়েব সিরিজ়। সবটাই পিছিয়ে গিয়েছে। তবে এর মধ্যে ‘কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’-এর ডাবিং করলাম। পরমের (পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়) ছবির শুট করলাম। করোনা নিয়েই আমাদের চলতে হবে, সেই মতো মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি,’’ বক্তব্য অভিনেতার। তবে মৃত্যুর খবরের অভিঘাত সহ্য করা কঠিন। বলছিলেন, ‘‘প্রত্যেক দিন ভাবি, আজ যেন কারও মৃত্যুর খবর না শুনতে হয়।’’
গত দশ বছরে প্রতি দুর্গাপুজোয় প্রসেনজিতের ছবি মুক্তি পেয়েছে। এ বার ব্যতিক্রম। জানালেন, পুজোয় রিলিজ় না থাকাটা মিস করবেন। শোনা যাচ্ছে ‘কাকাবাবুর প্রত্যাবর্তন’ শীতকালে আসবে। চিন্তিত কণ্ঠে বললেন, ‘‘এখন কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমার মতো লোকও প্ল্যান করা বন্ধ করে দিয়েছে। সব কথার শেষে জুড়ে দিতে হচ্ছে, ‘দেখা যাক’। এটাই এখন দস্তুর।’’
ইন্ডাস্ট্রির দুর্দিনে তার মতো সিনিয়র শিল্পীর যতটা এগিয়ে আসা উচিত ছিল, তা দেখা যায়নি, এমন কথা বাতাসে ভাসছে। ‘‘আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি। পৃথিবীর সব দায়িত্ব তো কাঁধে তুলে নিতে পারব না। তাই চেষ্টা করি আমার ইন্ডাস্ট্রির মানুষজনের পাশে থাকতে। কিন্তু এগুলো জাহির করতে চাই না। নিজের লোককে সাহায্য করলে কেউ বলে বেড়ায় না।’’ দেব যেমন নিজের উদ্যোগে অনেককে সাহায্য করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় তার উল্লেখও থাকছে। প্রসেনজিতের বক্তব্য, ‘‘দেব সত্যিই ভাল কাজ করছে। আসলে সাংসদ হওয়ার ফলে ওর ক্ষমতা আমাদের চেয়ে অনেকটাই বেশি।’’
তার আপাত নিস্তরঙ্গ জীবনে শ্রীলেখা মিত্রর কিছু অভিযোগ আলোড়ন তুলেছিল। শ্রীলেখা অভিযোগ করেছিলেন, প্রসেনজিতের আপত্তিতে অনেক প্রযোজক তাকে ছবিতে নেননি। এতে আহত হলেও, পাল্টা মন্তব্য করেননি প্রসেনজিৎ। প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে সহজ গলায় বললেন, ‘‘জেনে বুঝে কারও কখনও ক্ষতি করিনি। যদি অজান্তে করে থাকি, তা হলে ক্ষমা চাইছি। এ ধরনের কথাবার্তা সারাজীবন শুনে এসেছি, তাই আর অবাক হই না।’’
প্রসেনজিৎ কি আগের চেয়ে বেশি অন্তর্মুখী এবং ঈশ্বরবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন? তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া নজর করলে, এ দু’টি তথ্য স্পষ্ট হবে। অভিনেতা নিজেও মেনে নিলেন, ‘‘আমি বরাবরই ঈশ্বরবিশ্বাসী। এই অস্থির পরিস্থিতিতে তাঁকে যেন আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরেছি।’’

