অজানা রোগে আক্রান্ত দিনাজপুরের শিশু তাজবিন

অজানা রোগে আক্রান্ত দিনাজপুরের শিশু তাজবিন

মোসলেম উদ্দিন | উত্তরদক্ষিণ
হিলি (দিনাজপুর): রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১২:০৫

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার মুকুন্দপুর আদর্শ গ্রামের তাহের আলীর ৭ বছরের মেয়ে তাজবিন খাতুন দীর্ঘদিন যাবৎ এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দিনাপাত করছে।

`অনেক চিকিৎসা করেও কোন লাভ হয়নি। কোন ডাক্তার এ রোগের সঠিক বর্ননা বা রোগের নাম বলতে পারেনি’, এমনটাই বলছেন শিশুটির বাবা তাহের আলী। অসহায় হতদরিদ্র বাবা-মা মেয়েকে নিয়ে আজ দিশেহারা। অর্থের অভাবে বন্ধ রয়েছে শিশুটির চিকিৎসা।

দিনমজুর তাহের আলীর দুই মেয়ে। নিজের ভিটে-বাড়ি বলতে কিছুই নেই। সরকারি আদর্শ গ্রামে তার বসবাস। যে যখন কাজ দেয়, তাই করে সংসার চালান তিনি। দিনে দেড়শ থেকে আড়াইশ টাকা তার প্রতিদিনের উপার্জন। এই সামান্য অর্থ দিয়ে কোন মত খেয়ে না খেয়ে চলে আসছে তাহের আলীর জীবন-জীবিকা। মেয়ে তাজবিনের জন্মের দুই মাস থেকে মেয়ের এই রোগ। মেয়েকে নিয়ে বিভিন্ন ডাক্তার, হাসপাতালে দৌড়ে বেরিয়েছেন তিনি, কিন্তু কোন প্রতিকার পাননি। মেয়ের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাকে সুস্থ্য করার জন্য সংসারের যা ছিলো তা অনেক আগেই শেষ করে ফেলেছেন তাজবিনের অসহায় বাবা। যতদিন যাচ্ছে ততই মেয়েটির পায়ের অবস্থা আরও সোচনীয় হয়ে উঠছে। মেয়ের কষ্ট সইতে পারছেন না এই বাবা-মা। ঠিকমত হাটতে পারে না তাজবিন। মাটিতে পা রাখলেই শিশুটির কষ্ট হয়। তাকে কোলে নিয়েই সব কাজ করে আসছে তার বাবা-মা। বাবা যা কামাই করে তা দিয়ে সংসার চলাতে হিমশিম খাচ্ছে। মেয়ের উন্নতমানের চিকিৎসা করতে পারছেন না তারা।

তাজবিনের বাবা তাহের আলী বলেন, “আমার দুই মেয়ে, তাজবিন বড়, সে এবার প্রাইমারির প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। হেঁটে স্কুলে যেতে পারে না, কোলে করে তাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া এবং নিয়ে আসে করতে হয়। জন্মের দুই মাস পর মেয়ের পায়ে প্রথমে ফোড়া বের হয়েছিল। তারপর থেকে পায়ের বিভিন্ন অংশ ফেটে যায়। একের পর এক ডাক্তারী চিকিৎসা করাতে থাকি, কিছুতেই ভাল হয়নি। শেষে রংপুর, দিনাজপুর হাসপাতালে ভর্তি করেছি এবং ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু কোন ডাক্তার আমার মেয়ের রোগটা কী, তা বলতে পারেনি। বিগত ৭ বছর ধরে চিকিৎসা করে আসছি, আমি আর কুলিয়ে উঠতে পারছি না। মেয়েকে বাঁচাতে আজ নিরুপায় হয়ে দেশবাসীর কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছি। আমার মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন।”

এ বিষয়ে উপজেলার ৩নং মুকুন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, “আদর্শ গ্রামের তাহের আলীর মেয়ে তাজবিন খাতুনের পায়ে অজানা রোগ হয়েছে। সে তার মেয়েকে নিয়ে আমার পরিষদে এসে ছিলো, বিষয়টি আমি দেখেছি। তাকে সমাজ সেবা অফিসারের নিকট থেকে একটি সুপারিশপত্র আনতে বলেছি। সুপারিশপত্র পেলে তার মেয়ের জন্য একটা প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।”

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading