নূরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:৩১
ফেসবুক লাইভে এসে ধর্ষণ মামলার বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ আখ্যায়িত করায় এবার ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে এ মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের সেই শিক্ষার্থী, যিনি এর আগে নূরসহ ছাত্র অধিকার পরিষদের ছয় নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, চরিত্র হনন ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে তিনটি মামলা করেছিলেন।
এ আদালতের পেশকার শামীম আল মামুন জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা মামলার আরজিতে দুইজনকে সাক্ষী করা হয়েছে। “বিচারক ওই শিক্ষার্থীর জবানবন্দি নিয়েছেন, এখনও কোনো আদেশ দেননি।”
ওই শিক্ষার্থীর দায়ের করা ধর্ষণ মামলার আসামিদের ধরতে রবিবার মধ্যরাতে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অভিযানের মধ্যে ফেসবুক লাইভে এসে ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় কথা বলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর, যাকে গত কিছুদিন ধরে নিয়মিত ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মামলার বাদীর ‘চরিত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে নূর বলেন, “একেবারেই হাস্যরসাত্মক, ছিঃ! আমরা ধিক্কার জানাই যে, এত নাটক করছে, যেই দুশ্চরিত্রাহীন। যে ধর্ষণের নাটক করছে। স্বেচ্ছায়…।”
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন: ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোনো ডিজিটাল মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে, এমন কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রেরণ করেন, যা আক্রমণাত্মক বা ভীতি প্রদর্শক অথবা মিথ্যা; কোনো ব্যক্তিকে বিরক্ত, অপমান, অপদস্থ বা হেয় প্রতিপন্ন করার অভিপ্রায়ে তিনি যদি তা প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
২৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোনো ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মানহানিকর তথ্য প্রকাশ বা প্রচার করেন, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৩১ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা কোনো ডিজিটাল বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন বা করান, যা বিভিন্ন শ্রেণি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে বা অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অথবা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটায় বা ঘটবার উপক্রম হয়, তাহলে তিনি সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

