তুরস্কে ভূমিকম্পের ৩৩ ঘণ্টা পর ১ জনকে জীবিত উদ্ধার, মৃত বেড়ে ৫১

তুরস্কে ভূমিকম্পের ৩৩ ঘণ্টা পর ১ জনকে জীবিত উদ্ধার, মৃত বেড়ে ৫১

উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৮:৫৫

তুরস্কে শক্তিশালী ভূমিকম্পের ৩৩ ঘণ্টা পর পশ্চিমাঞ্চলে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার তুরস্কের উপকূল ও গ্রিসের দ্বীপগুলোকে কাঁপিয়ে দেওয়া এজিয়ান সাগরের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ তে দাঁড়িয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

ভূমিকম্পে ইজমিরের বেরাকলি জেলায় যে ২০টি ভবন ধসে পড়েছিল, তার একটির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে রবিবার (১ নভেম্বর) ভোররাতে আহমেদ সিতিম নামের ৭০ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করা হয়।

শনিবারও উদ্ধারকর্মীরা একটি ভবনের ধ্বংস্তুপের নিচ থেকে একজন মা ও তার চার সন্তানকে উদ্ধার করেছিল।

ভূতাত্ত্বিক চ্যূতি থাকার কারণে তুরস্কের উপকূল ভূমিকম্পপ্রবণ; ১৯৯৯ সালে দেশটির উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

শুক্রবারের ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ ছিল বলে জানিয়েছে ইস্তাম্বুলভিত্তিক কান্দিলি ইনস্টিটিউট; ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সামোসের উত্তর পূর্বে এজিয়ান সাগরে। এ ভূমিকম্পে ৮৮৫ জন আহত হয়েছেন, এদের মধ্যে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান।

আহমেদ সিতিমকে যে ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়, সেই একই ৮ তলা ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ভূমিকম্পের ১৭ ঘণ্টা পর ১৬ বছর বয়সী ইনসি ওকান ও তার কুকুর ফিস্তিককেও উদ্ধার করা হয়েছিল।

তুরস্কের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফাহরেনিতন কোচা এবং ন্যাশনাল মেডিকেল রেসকিউ টিমের (ইউএমকেই) সদস্য এদানুর দোগান হাসপাতালে ওকানকে দেখতে যান। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ১৬ বছর বয়সী এ কিশোরী বলেন, “আমি খুব খুশি। ভাগ্য ভালো আমার বাবা বাসায় ছিলেন না। বাবা সেখানে ভালোভাবে থাকতে পারতেন না।

“হয়তো তার মাথায় আঘাত লাগতো। আমি ছোট। ছোট হওয়ার কারণেই আমি চিপার মধ্যে পড়েছিলাম। এ কারণে আমাকে উদ্ধার করাও সম্ভব হয়।” হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলে দোগানকে ভায়োলিন বাজিয়ে শোনানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওকান। “আমি আপনার জন্য ভায়োলিন বাজাবো, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি,” বলেছে ১৭ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা এ কিশোরী।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading