প্রথম দিনেই জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল

প্রথম দিনেই জাতীয় চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল

উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ২০:০৫

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর রবিবার (১ নভেম্বর) খোলার প্রথম দিনেই জাতীয় চিড়িয়াখানায় ছিল মানুষের ঢল; তবে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশনা ছিল উপেক্ষিত। দর্শনার্থীদের ভিড়ের কারণে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে সীমিত উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা। একইসাথে সময়ের পরিধি বাড়িয়ে ফিরেছে আগের রুটিনও।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে না দেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে তাদের তৎপরতার কমতি ছিল না।
কিন্তু ভেতরে ঢোকার পর অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। বিভিন্ন পশু-পাখির খাঁচার সামনে জটলায় হারিয়েছিল সামাজিক দূরত্বও।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০ মার্চ বন্ধ করে দেওয়া হয় ঢাকার মিরপুরের এই চিড়িয়াখানা। মাস্ক বাধ্যতামূলকসহ নানা শর্তে তা খুলেছে।

আজ রবিবার সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায় চিড়িয়াখানার প্রবেশ ফটকের বাইরে। মাসের প্রথম রবিবার হওয়ায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে এদিন বিনামূল্যে প্রবেশ করেছেন সবাই।

প্রবেশমুখে ছক আঁকা থাকলেও দৈহিক দূরত্ব মানতে দেখা যায়নি। তবে ঢোকার সময় সবাইকে মাস্ক পরতে দেখা গিয়েছিল। সকাল নয়টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ দুই হাজার দর্শনার্থী প্রবেশের শর্ত থাকলেও এদিন প্রবেশ করেছেন স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও বেশি দর্শনার্থী। দুই ঘণ্টা বেশি সময়ও কাটাতে পেরেছেন তারা।

চিড়িয়াখানার কিউরেটর আবদুল লতিফ বলেন, সাধারণ সময়ে দিনে ৮ থেকে ১০ হাজার দর্শনার্থী প্রবেশ করতেন। “আজকে মাসের প্রথম রবিবার হওয়ায় সবাইকে সৌজন্য টিকিট দিয়েছি আমরা। বিকাল ৫টা নাগাদ ১১ হাজার ৮০২ জন দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন।” এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি হলে চিড়িয়াখানা খোলা রাখার সময় বাড়বে।

প্রথমদিনই সীমিত সময় ও দর্শনার্থীর বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কিউরেটর বলেন, “চাহিদার প্রেক্ষিতে এটা সরকার উঠিয়ে দিয়েছে।
“নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যত দর্শনার্থী আসবেন, ষাটোর্ধ্ব ছাড়া সবাই ঢুকতে পারবেন। আর আগামীকাল সোমবার থেকে শীতকালীন সময় সকাল ৮টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।”

দীর্ঘ বিরতির পর চিড়িয়াখানা খুলে দেওয়ায় উচ্ছ্বসিত ছিল দর্শনার্থীরা। তবে স্বস্তির পাশাপাশি শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। মিরপুরের রাইনখোলার এক বাসিন্দা বলেন, “বাসা থেকে চিড়িয়াখানা দেখা যায়। অথচ এতদিন আসতে পারি নাই। বাচ্চারা তো আসতে চায়।

“আজকে এসে ভালো লাগছে। ঘোরার সময় বাড়িয়ে দিয়েছে, এটাও ভালো হয়েছে। তবে দর্শনার্থী সীমিত থাকলে ভালো হতো, কারণ সময়টা তো ভালো না।”

মালিবাগ থেকে আসা আফরিন সুলতানা মনে করেন, চিড়িয়াখানা আরও আগে খুলে দেওয়া উচিত ছিল। “এতদিন তো বন্দি ছিলাম। কোথাও যাওয়া হয় না। সব জায়গায় তো সব স্বাভাবিক। এটা আগে খুললে কি সমস্যা হত? এত বড় এরিয়া, মাস্ক পরে থাকলে রিস্ক তো খুব কম এখানে। মানুষের মন ভালো থাকলে রোগের ভয় এমনি কমে যায়।”

প্রাণীদের কাছাকাছি যাওয়া ও খাবার দেওয়া নিষেধ থাকলেও, কেউ কেউ তাও মানেননি। এ বিষয়ে কিউরেটর লতিফ বলেন, “আমরা তো নিরুৎসাহিত করেছি তাদের। কিছু অতি উৎসাহী দর্শনার্থী এটা করেছে। আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে এটা বন্ধ করা যায়।”

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading