স্বাস্থ্যবিধি মানাতে সরকার কঠোর হতে যাচ্ছে: ওবায়দুল কাদের
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৭:৫০
শীতে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি জনগণকে মানাতে সরকার কঠোর হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ঘরের বাইরে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করার পর তা উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং সংক্রমণ বাড়তে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৪ নভেম্বর) সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসা থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি।
শীত ‘সেকেন্ড ওয়েব’ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কার কথা মনে করিয়ে দিয়ে কাদের বলেন, “ইতোমধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশে নতুন করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় লকডাউন আরোপ করা হয়েছে।’
“সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।” মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে শিথিলতা দেখে সরকার সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতি ঘোষণা করেছে।
কাদের বলেন, “এ নীতি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে। যে কোনো সমাগমে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জনগণের সুরক্ষায় এ বিষয়ে শেখ হাসিনা সরকার ধীরে ধীরে আরও কঠোর অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।”
‘কারও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত নয়’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজবের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কারও ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হেনে কিছু না লেখার আহ্বান জানিয়েছেন কাদের।
তিনি বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি, সম্প্রতি ধর্মীয় ইস্যুসহ নানান ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মতলবি-মহল উদ্দেশ্যমূলক গুজব ছড়াচ্ছে, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে চালাচ্ছে অপপ্রচার। “তারা সামাজিক শান্তি, স্বস্তি এবং আমাদের ঐতিহ্যগত সকল ধর্মের মানুষের বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান নষ্ট করতে চায়। এসব মিথ্যা প্রচারণা নিঃসন্দেহে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।”
কাদের বলেন, “সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এবং কুমিল্লার মুরাদনগরে দুটি ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের প্রতিটি ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। হতে হবে পর-ধর্ম সহিষ্ণু। কেউ কারও ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করে বা কটাক্ষ করে পোস্ট দেওয়া প্রত্যাশিত নয়। এ ধরণের উস্কানিমূলক পোস্ট শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” ‘উস্কানিমূলক’ কিছু নজরে এলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে আহ্বান জানান তিনি।
সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের মুলনীতি বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তিকে রাজনীতি করা সুযোগ দেওয়া বিএনপির মুখে মুক্তিযুদ্ধের জন্য মায়াকান্না মানায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের।
‘সরকার মুক্তিযুদ্ধের সব অর্জন ধ্বংস করে দিচ্ছে’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “বিএনপির কথা শুনে হাসব, না কাঁদব, ভেবে পাই না। যারা এখনও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির দোসরদের বিশ্বস্ত আশ্রয়, তাদের মুখে এ কথা মানায় না।
“এদেশের স্বাধীনতা যার নেতৃত্বে এসেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ককে হত্যার সরাসরি বেনিফিশিয়ারি বিএনপি। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসবিকৃতির জনক। যাদের হাত দিয়ে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের নামে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছিলো, তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের জন্য মায়াকান্না মানায় না।”
মুক্তিযুদ্ধের অর্জন ভূলুণ্ঠিত করার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন তিনি। গণতন্ত্র নিয়ে বিএনপির উদ্বেগ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি কথায় কথায় গণতন্ত্রের কথা বলছে। আমরা জানতে চাই, তারা কোন গণতন্ত্রের কথা বলছে। তাদের দেখানো হালুয়া-রুটির গণতন্ত্র?”
“তাদের গণতন্ত্র ছিল এক চিমটি লবণ, এক মুষ্টি গুঁড় আর আধা সের পানির মিশ্রণের মতো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যে অবিরাম যাত্রা, তাতে বিরোধী দল হিসেবে কী ভূমিকা তারা রাখছে, তা জনগণ জানতে চায়।”
নির্বাচন কমিশনের উপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই দাবি করে কাদের বলেন, “বিএনপির কোনো বক্তব্য থাকলে, কিংবা দ্বিমত থাকলে কমিশনকে জানাতে পারে।”

