রায়হান হত্যা: এসআই আকবর ৭ দিনের রিমান্ডে

রায়হান হত্যা: এসআই আকবর ৭ দিনের রিমান্ডে

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ১০ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৬:০৫

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিহত রায়হান আহমদ হত্যায় অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (বরখাস্ত) সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কঠোর পুলিশি পাহারায় সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে তাকে হাজির করা হয়। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক আবুল কাশেম তা মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘রায়হান হত্যার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পিবিআই আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। সেই সঙ্গে তার সহযোগীদের সম্পর্কেও তথ্য জানতে চাইবে পিবিআই।’

জানা যায়, সোমবার (৯ নভেম্বর) সকালে কানাইঘাটের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী খাসিয়াদের সহযোগিতায় পুলিশ আকবরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর সোমবার রাত ৭টার দিকে জেলা পুলিশ আকবরকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর অফিস থেকে বের হয়ে বন্দরবাজার এলাকায় যাওয়ার পর এএসআই আশেক এলাহী রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাাঁড়িতে নিয়ে যান। জানা গেছে, সেখানে টাকার দাবিতে নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন রায়হান। এজন্য রাতে পুলিশের ফোন থেকে সৎবাবাকে ফোনও করেন রায়হান।

১০ হাজার টাকা নিয়ে পরিবার সদস্যরা রাতে ফাাঁড়িতে এলেও ততক্ষণে গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের ফেরত পাঠানো হয়। ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে রায়হানকে গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন এএসআই আশেক এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ এনে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দর বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করে।

বরখাস্তদের মধ্যে রয়েছেন–কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ ও টিটু দাস। প্রত্যাহার হওয়া তিন জন হলেন−এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন। আর এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading