পুরান ঢাকায় ঘোড়ার গাড়িতে এখন ওয়াইফাই-এসি-টিভি!
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:৫৯
ঘোড়ার গাড়ি একটি রাজকীয় ঐতিহ্য। এর সাথে ৭০০ বছরের ইতিহাস জড়িত। সেই মোগল আমল থেকেই ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার হয়ে আসছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ঘোড়ার গাড়িতেও এখন লেগেছে ডিজিটালাইজেশনের ছোঁয়া। অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি। ঘোড়ার গাড়িতেই এখন মিলছে বিলাসবহুল বাস-ট্রেনের মতো সুযোগ সুবিধা! তাও বাংলাদেশেই। ঘোড়ার গাড়িতে রয়েছে ওয়াইফাই-এসি-সিসি ক্যামেরা ছাড়াও বিনোদনের জন্য রয়েছে ৫৫ ইঞ্চি টিভিও।

রাজধানীর পুরান ঢাকায় দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে এটি।
একনজর দেখলে এই গাড়ি আহামরি বলে কিছু মনে হবে না। আর দশটা টমটম ঘোড়ার গাড়ি বলেই মনে হবে। কিন্তু একটু সময় নিয়ে কাছে থেকে দেখলে যে কারও ভিমড়ি খাওয়ার উপক্রম হবে। তালা খুলে ভেতরে নজর দিতেই চোখে পড়বে দামি মকমলের টকটকে লাল রঙিন কাপড়ে তৈরি দুই সেট বসার সোফা। ভেতরে সুন্দর করে টানানো দামি পর্দা। একপাশে মাথার ওপর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্র (এয়ারকন্ডিশন), আরেক পাশে টেলিভিশন ও ওয়াইফাইয়ের সংযোগ এবং জেনারেটর। বাইরে লাগানো সিসিটিভি।
সুন্দর নকশা ও কারুকার্যময় গাড়িটিতে লাগানো হয়েছে সুন্দর সুন্দর লাইট।

গাড়ির মালিকের নাম শুক্কুর আজাদ। শখ করেই তিনি ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসায় নেমেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে যখন ডিজিটাল ছোঁয়া লেগেছে তখন আমারও মনে হলো ঘোড়ার গাড়ির মধ্যে কীভাবে আধুনিকতা আনা যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশের চিন্তাধারা থেকেই ঘোড়ারগাড়িতে এসি, নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরা, ইন্টারটেইনমেন্টের জন্য গাড়ির পেছনে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শনের জন্য ৫৫ ইঞ্চি টিভি দেয়া হয়েছে।

বিয়ে ও রাজনৈতিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এটি দৈনিক ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় ভাড়া দিয়ে থাকেন বলেও জানান তিনি।
শুক্কুর আরও জানান, যেকোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে বিয়ের বর তার বাসা থেকে রাজকীয় এ গাড়িতে চড়ে কমিউনিটি সেন্টারে যান। সেখানে অনুষ্ঠান শেষ করে বর কনেকে বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়।

