ইট তৈরিতে ব্যস্ত হিলির ভাটা শ্রমিকরা

ইট তৈরিতে ব্যস্ত হিলির ভাটা শ্রমিকরা

মোসলেম উদ্দিন । উত্তরদক্ষিণ
দিনাজপুর: রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০ । আপডেট: ১২:১৪

ইট তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের হিলির ভাটা শ্রমিকরা। গভীর রাত থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ইট তৈরি এবং দুপুর দু’ইটা পর্যন্ত ইট সাজানোর কাজ করছেন তারা। এথেকে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি আসে, এমনটিই বলেছেন শ্রমিকরা।

জেলার বিভিন্ন ইট-ভাটা ঘুরে দেখা যায়, আগ্রায়ণ মাসের শুরু থেকে ভাটায় ইট তৈরির সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভাটার আশপাশের ইট তৈরির স্থানগুলোকে পরিষ্কার করে তা সমান করা হয়েছে। ইট তৈরির জন্য লাল ও পলি জাতীয় মাটি ব্যবহার করছেন তারা। মাটিগুলোকে পানি দিয়ে ১২ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা হয়েছে। পরে সেই ভিজা মাটিগুলোকে মেশিন দ্বারা ইট তৈরি করা মতো উপযুক্ত করছেন। আবার শ্রমিকরা ইট তৈরি করে শুকানোর জন্য সাজিয়ে রেখেছেন। সেগুলো শুকাতে সময় লাগবে প্রায় ৩ থেকে ৪ দিন। পরে পুড়ার জন্য ভাটার ভিতরে ইট সাজানো হবে। প্রথমে ভাটায় আগুন দিলে তা পুড়ে ইট তৈরি হতে প্রায় সময় লাগে ১৫ দিন। ভাটায় কয়েকটি মিল থাকে, আর সেই মিলগুলোতে ১৬ থেকে ২০ জন অর্থাৎ জোড়া হিসেবে শ্রমিক থাকে। অর্ধেক শ্রমিক ইট তৈরি করেন আর অর্ধেক শ্রমিক ইট বানানোর জন্য কাদা তৈরি করেন। এক হাজার ইট তৈরি করলে, ভাটা মালিক তার মজুরি দেন ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা। আর এই টাকার অর্ধেক করে ভাগ পায় ইট তৈরি শ্রমিক ও কাদা তৈরি শ্রমিকরা।

কথা হয় রংপুরের মিঠা পুকুর থেকে আসা মোস্তাফিজুরের সঙ্গে তিনি বলেন, বছরে ৪ থেকে সাড়ে ৪ মাস আমাদের এই ইট বানানোর কাজ হয়ে থাকে। দিনে ২৬০০ থেকে ২৮০০ ইট তৈরি করে থাকি। দিনে এথেকে আয় হয় সাড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার। প্রতিদিন হাত খরচ হয় ২০০ টাকা এবং বাঁকি টাকাটা বাড়ির জন্য জমা রাখি।

নবাবগঞ্জ থেকে আসা কাদা তৈরির শ্রমিক হাসান আলী বলেন, প্রতিদিন বিকেলে মাটির খামাল থেকে লাল ও পলিমাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখি। পরের দিন সকালে তা মেশিন দিয়ে কাদা তৈরি করে, ইট তৈরি করা শ্রমিকদের দেয়। আমরা ৬২০ টাকা হাজারে ইট তৈরি করি। কাদা তৈরি করতে আমাদের বেশি শ্রম দিতে হয় এজন্য আমাদের আয় ভালো হয়।

এছাড়াও জেলার অন্যান্য ইট ভাটায়ও পুরোদমে কাজ চলছে গভীর রাত থেকে দুপুর অব্দি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading