আমার সমর্থকদের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে না: ট্রাম্প
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১২:৫৮
নির্বাচনে পরাজয় না মানা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে এগিয়ে এসেছেন শতাধিক আইনপ্রণেতা। ট্রাম্প-সমর্থক রক্ষণশীলরা ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্যাপক সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জো বাইডেনকে বিজয়ী ঘোষণা করার প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প নিজেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে না। সিএনএন বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, ট্রাম্প তার অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে ফ্লোরিডা থেকে হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ক্রিসমাস ও নিউ ইয়ার পালনের জন্য ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো-তে অবকাশ কাটাতে যান। নানা নাটকীয়তার পর সেখানে বসেই তিনি নাগরিক প্রণোদনা আইনে স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্প এখন ৬ জানুয়ারি কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশন সামনে রেখে ঝামেলা পাকানোর জোর প্রয়াস চালাচ্ছেন। অবকাশ সংক্ষিপ্ত করেই তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে আসছেন।
মিজৌরি থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর জোশ হাওলি ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ইলেকটোরাল ভোট গণনা নিয়ে যৌথ অধিবেশনে আপত্তি জানাবেন।
সিনেট ও কংগ্রেসের একজন করে সদস্য এমন আপত্তি উপস্থাপন করলে তা নিয়ে কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিক বিতর্কের সুযোগ আছে।
দ্য হিল নামের সংবাদমাধ্যম বুধবার পর্যন্ত ২১ জন এমন আইনপ্রণেতার তালিকা নিশ্চিত করেছে, যারা কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে আপত্তি উপস্থাপনে যোগ দিচ্ছেন। এই সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়াস চলছে ট্রাম্প শিবির থেকে।
সর্বশেষ গণনায় দেখা যাচ্ছে, কংগ্রেসের ৬ জানুয়ারির যৌথ অধিবেশনে শতাধিক আইনপ্রণেতা ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন।
সিনেটে রিপাবলিকান দলের নেতা মিচ ম্যাককনেল এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ব্যক্তিগতভাবে দলের আইনপ্রণেতাদের এমন কাজে যোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
টেক্সাস থেকে নির্বাচিত সিনেটর জন কোরনাইন সাংবাদিকদের বলেছেন, এমন অনেক কিছুই চাওয়ার বিরুদ্ধে ঘটে যায়। আর এমন ঘটনা ঘটলেই তখন তা মোকাবিলা করতে হয়। প্রভাবশালী এই সিনেটর নিজের অবস্থানের বাইরে গিয়ে ট্রাম্পের ভুয়া দাবির পক্ষে দাঁড়াবেন না বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা সিনেটর চালর্স শুমার মিজৌরির সিনেটর জোশ হাওলির বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। শুমার বলেছেন, ভোট নিয়ে কয়েক ডজন মামলায় হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্পের নির্বাচনে কারচুপির আর কোনো দাবি ধোপে ঠেকে না।
সিনেটর শুমার বলেছেন, ‘এটা হচ্ছে আমেরিকা! নির্বাচন হয়েছে। এবং ফলাফল পাওয়া গেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যুক্তি সত্যের ওপর ভিত্তি করে, ষড়যন্ত্র বা কল্পনাপ্রসূত নয়।’
কংগ্রেসের উভয় কক্ষে আইনপ্রণেতারা আপত্তি ওঠালে প্রতিটি আপত্তির জন্য আলাদা বিতর্ক ও ভোট দেওয়া হতে পারে।

