করোনায় ‘মৃত্যুহীন দেশ’, অভিশপ্ত বছরের ক্যালেন্ডার পাল্টাল ভুটান

করোনায় ‘মৃত্যুহীন দেশ’, অভিশপ্ত বছরের ক্যালেন্ডার পাল্টাল ভুটান

উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ১৯:০০

সীমান্তের ওপারে লাল-নীল-হলুদ-সাদা ধর্মীয় রীতির কাপড় উড়ছে। বলছি ড্রাগনভূমি ভুটানের কথা। প্রায় নীরব থাকে দেশটি। এই নীরবতার প্রাচীর পেরিয়ে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়েছে নজির গড়া নজিরবিহীন লড়াইয়ের কথা- করোনাভাইরাসের হামলায় মৃত্যুহীন অভিশপ্ত বছরটি পার করছে পশ্চিমবঙ্গের নিকট প্রতিবেশী দেশটি।

শিক্ষা ও মানব উন্নয়নের বিশ্ব ক্রম তালিকায় পিছনের সারিতে থাকা ভুটান এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এর কাছে বিস্ময়। চিন ও ভারতের মাঝে থাকা ভুটান করোনাভাইরাসের হামলা শুরু থেকেই প্রতিরোধের প্রাচীর খাড়া করে। ফলত, চিন থেকে ভাইরাস হানায় বিশ্ব জুড়ে মৃত্যু মিছিল শুরু হলেও চিনেরই গায়ে লেপ্টে থাকা ‘বজ্রড্রাগনের দেশ’ এই লড়াইয়ে করোনার বিরুদ্ধে খুদে দৈত্যের মতো পেশী ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর চিনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছিল। মাস তিনেকের মাথায় ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) একে বিশ্ব জোড়া মহামারি চিহ্নিত করে। এই ঘোষণার পাঁচ দিন আগে ভুটানের নিরুপদ্রব শান্ত জীবনে লেগেছিল আলোড়ন। ৫ মার্চ করোনা আমেরিকান নাগরিক ভুটানে করোনা রোগী হিসেবে চিহ্নিত হলেন। ভাইরাস হামলার প্রাথমিক ধাক্কা মুহূর্তে সামলে নিয়ে ভুটান সরকার যুদ্ধ শুরু করে দেয়। বিদেশি বা বিদেশ থেকে আসা নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য একের পর এক কড়া নিয়ম জারি করে ভুটান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

করোনা মোকাবিলায় ভুটানের বিশেষ কমলা যোদ্ধারা দেশটির সর্বত্র বিনামূল্যে স্যানিটাইজার পরিষেবা দিতে নেমে পড়েন। আর বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির বহুল প্রয়োগ করে জনগণকে জীবানু হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার মরিয়া লড়াই চালাচ্ছিল ভুটান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সময় ভুল উচ্চারনে কটাক্ষ করার জন্য বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ভুটান কে ‘বাটন'(বোতাম) বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর দেশের নাগরিক ভুটানেই করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা পরিষেবার সুখ্যাতি করেন। তাঁকে সুস্থ করেই নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কৃতিত্ব দেখিয়েছে ভুটান।

লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বগুলি ছিল খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় তড়িঘড়ি না করে ভুটান সরকার প্রথমে সকল নাগরিকদের কাছে নির্দেশ পাঠায় সরকারি খাদ্য তহবিল ভরাট করতে হবে। সেই তহবিল থেকে প্রয়োজন মতো সরবরাহ হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ করেই লকডাউন শুরু করে দেশটি। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতিটি পদক্ষেপ সুচারু উপায়ে পার করে মৃত্যুকে ঠেকিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টায় সফল দেশটি।

গত বছরটি আক্ষরিক অর্থেই বিষাক্ত বছর চিহ্নিত হয়েছে। ফেলে আসা বছরে লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছেন করোনার হামলায়। এই বিপর্যয়ের মাঝে ভিয়েতনাম, লাওসের মতো গুটি কতক করোনাকে রুখতে পেরে বিশ্ব জোড়া আলোচনায় উঠে এসেছে বারবার। একইভাবে ভুটান রুখেছে মহামারিকে। করোনাভাইরাসের হামলা ও সালতামামি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে লেখা হচ্ছে। কেমন করে অদৃশ্য জীবাণু ঘাতকদের আগমণে থমকে গিয়েছিল দুনিয়া। এমনই করোনায় ‘মৃত্যুহীন দেশ থেকেই’ অভিশপ্ত বছরের ক্যালেন্ডার পাল্টাল ড্রাগনভূমি

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading