ধেয়ে আসছে বিশাল আইসবার্গ, প্রাণ হারাতে পারে ২০ লাখ প্রাণী!

ধেয়ে আসছে বিশাল আইসবার্গ, প্রাণ হারাতে পারে ২০ লাখ প্রাণী!

উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ০১ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ১৯:০৫

অ্যান্টার্কটিকা থেকে বেরিয়ে আসা একটি অত্যন্ত বড় আইসবার্গ সমুদ্রের একটি আবাসিক দ্বীপের দিকে এগিয়ে চলেছে। সমস্যা হল এই দ্বীপে ২০ লক্ষেরও বেশি পেঙ্গুইন বাস করে। এই আইসবার্গ বা হিমশৈল যদি দ্বীপের কাছাকাছি চলে আসে তবে পেঙ্গুইনদের জীবন প্রশ্নের মুখে দাঁড়াবে।

এই বিশালাকার আইসবার্গের নাম A68a। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এই আইসবার্গ অ্যান্টার্কটিকার বৃহত্তম আইসবার্গ লারসেন-সি থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিল। সেই থেকে এটি সাগরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যখন এটি আলাদা হয়েছিল, তখন এর আয়তম ছিল ৫৬৬৪ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে, এর আকার ২৬০৬ বর্গকিলোমিটার।

আইসবার্গ a68a অ্যান্টার্কটিকা থেকে পৃথক হওয়ার সময় ২৮৫ মিটার পুরু ছিল। এই আইসবার্গটি বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরে উপস্থিত দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপের দিকে এগিয়ে চলেছে। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল, ক্রিওস্যাট এবং আমেরিকার আইএসস্যাট -২ উপগ্রহ দ্বারা এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি পেঙ্গুইন এবং সিল দক্ষিণ জর্জিয়াতে বাস করে। আইসবার্গ যদি দক্ষিণ জর্জিয়ার উপকূলে গিয়ে আটকে যায়, তবে এই লক্ষ লক্ষ পেঙ্গুইন এবং সিলগুলি খাওয়া এবং পানীয় জলের সমস্যায় পড়বে। কারণ, এটি সমুদ্রের এত বড় অঞ্চল জুড়ে থাকবে যে পেঙ্গুইন এবং সিলগুলি আর তাঁদের খাবার খুঁজে পাবে না।

বিশ্বজুড়ে পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন যে আইসবার্গ a68a এর জেরে দক্ষিণ জর্জিয়ার প্রাণীকূল শেষ হয়ে যাবে। কারণ এই সময়টি পেঙ্গুইন এবং সিলের প্রজননের সময়। ফলে বড় বিপত্তি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যাচ্ছে, আইসবার্গ a68a তিনটি বড় টুকরোতে বিভক্ত। একটি ছোট টুকরা পৃথক হয়ে আগে আগে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, কোনও বিশাল মাপের ঝড় বা হারিকেনই পারে এই আইসবার্গের গতিপথ পালটে দিতে।

বর্তমানে এই আইসবার্গ দ্রুত দক্ষিণ জর্জিয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানীরাও এটির দিকে তাঁদের সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। সমুদ্রের জলে এটিকে মিশে যেতে আরও বেশ কয়েকমাস সময় লাগবে, ততদিনে বিরাট মুশকিলে পড়তে পারে ওই দ্বীপের প্রাণীরা।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading