হিরো আলমও গায়ক হয়ে যায়!
উপসম্পাদকীয় | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০০:০১
জাহিদ জাবির :: ‘হিরো’ শব্দটি ইংরেজি হলেও তার বাংলা হচ্ছে নায়ক। বাংলা চলচ্চিত্রে যুগে যুগে বহু নায়ক এসেছেন, এদের কেউ কেউ আলোচিত কেউবা আবার সমালোচিত আবার ফ্লপ নায়কের সংখ্যাও অনেক। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী যুগে ফিরে গেলে মিলবে বহু নায়ক-মহানায়কের দেখা। আজিম, রাজ-রাজ্জাক, মিয়াভাই খ্যাত ফারুক, জাফর ইকবাল, আলমগীর, জসিম, সালমান শাহ, রিয়াজ, ফেরদৌস, আমির খান, আমিন খান, ঢাকাইয়া কিংখ্যাত শাকিব খানসহ প্রমুখ। বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন এই তারকারা। কেউ পেয়েছেন মহানায়কের তকমা। কিন্তু কখনো কাউকে নিজের নামের আগে ‘হিরো’ ব্যবহার করতে শুনিনি। মানুষ তাদের নায়ক বলেছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী যুগের সমাপ্তি অনেক আগেই দৃশ্যমান। মাঝখানে অশ্লীলতার ঠাই। এরপর সেখান থেকে বেরিয়া আসা। এখন যেন গুটি কয়েক সিনেমা বাদে চলচ্চিত্রাঙ্গন টিকিয়ে রাখা দায়। কিন্তু এর মাঝেও বিপত্তি ঘটাল ‘ভাইরাল স্টার’। হঠাত্ করেই এর উত্পত্তি। নামের আগে হিরো বসিয়ে বনে গেলেন নায়ক, এরপর একাধারে ব্র্যান্ড এম্বাসেডর, মডেল, আর এখন গান! নাম তার আশরাফুল আলম সাঈদ। যিনি ‘হিরো আলম’ নামে পরিচিত। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েই মনে হয় আলোচনায় থাকতে ভালবাসেন এই নায়ক। তবে এই হিরো’র নায়ক হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। চলচ্চিত্র, মিউজিক ভিডিও’র বিষয়, অভিনয়, নাম, দৃশ্যসহ তার সবকিছু নিয়েই রয়েছে বিতর্ক। এক শ্রেণির মানুষ হয়ত এসব পছন্দ করে। আরেক শ্রেণির মানুষ হয়ত বিনোদনের জন্য দেখে। আর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়া যেন আরেক শ্রেণির মানুষের কাজ।
বিভিন্ন সময় নানা কর্মকাণ্ড করে বিতর্কের জন্ম দিলেও এবার আলোচনায় এসেছেন গান গেয়ে। প্রত্যেকটি গান প্রকাশিত হয়েছে ইউটিউবে ‘হিরো আলম অফিসিয়াল’ নামক একটি চ্যানেল থেকে। বিভিন্ন সময় অনেকে অনেক ‘অখাদ্য’ গান গেলেও হিরো আলমের গানগুলো অখাদ্যের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন বাংলা এবং হিন্দি গানের কপি। এছাড়াও অসামঞ্জস্যপূর্ণ মিউজিক, বিকৃত লিরিক্স, অশ্লীল ভাবভঙ্গি এবং অর্থহীন শব্দের সমারোহ। কিছু গানের মাঝে আবার ভিনদেশী শিল্পীর গানের অংশও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি গানের ভিউও পড়েছে অনেক। কিছু কিছু গান তো অল্প সময়ের মধ্যে মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে গেছে আবার কিছু গান কোটির ঘর ছুঁবে এমন অবস্থা। যার একটি গানও মানসম্মত নয়। কোনো গানের ক্লাসের মধ্যেই পড়ে না। অনেকেই একে আবার ‘সঙ্গীতের অপমান’ বলছেন। যে যাই বলুক এসব গানে এক শ্রেণির মানুষের পকেট ঠিকই ভরছে।
আশরাফুল আলমের একটি গানের কথা উদাহরণ হিসেবে তুলে না ধরলেই নয়। ‘ওলে ওলে’ শিরোনামের একটি গান গত ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয় ‘হিরো আলম’ চ্যানেলে। যে গানটি সাইফ আলী খান অভিনিত ‘ইয়েহ জিন্দেগী’ নামের চলচ্চিত্রের একটি জনপ্রিয় গানের কপি। হিরো আলমের এই গানটির ভিউও প্রায় মিলিয়ন। আরেকটি গানের কথা না তুললেই নয়। যেটি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আলোচিত ‘বাবু খাইছো’ গানের শিরোনাম, কথা, সুর চুরি ও বিকৃত করার অভিযোগে হিরো আলমের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছেন সোলস ব্যান্ডের সদস্য ও সংগীত পরিচালক মীর মাসুম।
বিভিন্ন ঈদে দেশের একটি বেসরকারি চ্যানেলে চ্যানেলটির চেয়ারম্যানের গান নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হয়। যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে অনেকেই গানগুলোকে ‘বেসুরো’ বললেও গানগুলোতে সামাজিক অধঃপতন বা খারাপ কিছু তৈরি হয়নি। কিন্তু হিরো আলমের এসব ‘বেসুরো’ গানে একদিকে যেমন গানের মান নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে। যা সমাজকে অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি শিল্প ও প্রকৃত শিল্পীর মান নষ্ট করছেন তিনি। এমন গানে ক্ষুব্ধ অনেক শিল্পী। গণমাধ্যমেও অনেক শিল্পীকে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।
হিরো আলমের ওই চ্যানেলটিতে বিতর্কিত গানের পাশাপাশি কিছু ভিডিওতে সামাজিক বার্তাও ছিল। যেখানে তাকে সমাজের ভালো ও খারাপ দিক নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসার যোগ্য। তাই বলে এমন গলা, সুর আর অশ্লীল লিরিক্স নিয়ে গান অবশ্যই সমাজের কাছে অগ্রহণযোগ্য। তাই অনেকটা কষ্ট নিয়েই বলতে হয়, হিরো আলমও গায়ক হয়ে যায়, দেখার কি কেউ নেই? লেখক: সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট

