ভ্যাকসিন বিষয়ক অ্যাপ তৈরিতে টাকা খরচের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা: পলক
উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৭:১৫
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, করোনা টিকাগ্রহীতাদের জন্য ডাটাবেজ তৈরিতে যে অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে তার জন্য কোনও টাকাই খরচ হবে না। টাকা খরচের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওই অ্যাপ তৈরি করতে কোনও টাকাই খরচ হবে না।
মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। এর আগে সোমবার (১১ জানুয়ারি) দেশের একটি গণমাধ্যমে ‘৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি অ্যাপের মাধ্যমে টিকাগ্রহীতাদের নিবন্ধন করা হবে’ শীর্ষক খবর প্রকাশ হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ ব্যাপারে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের একটি ডাটাবেজ সফটওয়্যার আগে থেকেই তৈরি আছে। আমরা সেই ডাটাবেজের ওপর ‘সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম’ তৈরি করবো। ওটাই হবে সেই অ্যাপ। আইসিটি বিভাগে কর্মরত প্রোগ্রামাররাই (ইনহাউজ প্রোগ্রামার) অ্যাপটি তৈরি করবেন। নিজেদের জনবল, অফিস, সোর্স ব্যবহার করে কাজটি করা হবে। ফলে এর জন্য কোনও টাকাই খরচ হবে না। কারণ কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অ্যাপটি তৈরির জন্য আমরা কার্যাদেশ দিইনি।
পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাদের বলা হয়েছে যেহেতু একটা ডাটাবেজ রেডি আছে এবং সেটা পরীক্ষিত। ফলে ওই ডাটাবেজটি ব্যবহার করে সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন দিতে হলে গ্রহীতার বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত (নাম, ঠিকানা, বয়স ইত্যাদি) থাকতে হবে। অনেক তথ্য ক্রস চেক করতে হবে। ফলে প্ল্যাটফর্ম একটা প্রয়োজন হবেই। আমরা ‘সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম’ ব্যবহার করবো। যত দ্রুত সম্ভব অ্যাপটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে।
পলক বলেন, বলা হচ্ছে অ্যাপটির নির্মাণ ব্যয় ৯০ কোটি টাকা। এই টাকা কে দেবে- প্রশ্ন করেন তিনি। তিনি বলেন, ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা খরচ করতে পারেন। ৯০ কোটি টাকার কেনাকাটার জন্য পারচেজ কমিটির কাছে যেতে হবে। এছাড়া এই অ্যাপ তৈরির জন্য আমরা অর্থ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর কারও কাছে টাকা চাইনি। ফলে অ্যাপ তৈরিতে ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিষয়টি পুরোটাই মনগড়া। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিবাদপত্র পাঠানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
প্রসঙ্গত, আইসিটি বিভাগের সেন্ট্রাল এইড ম্যানেজমেন্ট (ক্যাম) নামের একটি সফটওয়্যার রয়েছে। সফটওয়্যারটি আইসিটি বিভাগের প্রোগ্রামারদের একটি দল তৈরি করেছে। ওই সফটওয়্যারের মাধ্যমে করোনাকালে দেশের ৫০ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম সফটওয়্যার ব্যাকএন্ডে থেকে কাজ করেছে। টাকা সুবিধাভোগীরা নগদ, বিকাশ ইত্যাদি মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পেয়েছেন। সেই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেই অ্যাপটি তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে।

