স্কুলে যাই না, এখন আমরা কেবল গেইমে যাই

স্কুলে যাই না, এখন আমরা কেবল গেইমে যাই

উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৪:৪৫

“আমি এখানে থাকি, স্কুলে যাই না। স্কুলকে অনেক মিস করছি। এখন আমরা কেবল গেইমে যাই, (না পেরে) ফিরে আসি; খেলতে যাই, আবার ফিরে আসি।” কথাগুলো বলছিলেন জয়নফ জাবের নামের ১১ বছর বয়সী এক ইরাকি বালিকা। গ্রিসের শরণার্থী শিবিরে যে বছরখানেক কাটিয়েছিল, তখনই সামান্য ইংরেজি শিখেছিল জয়নফ জাবের; ১১ বছর বয়সী এ ইরাকি বালিকা এখন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসনিয়া থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ক্রোয়েশিয়া ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বার বার।

উন্নত জীবনের আশায় পশ্চিম ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় জয়নফের পরিবারের মত হাজারো শরণার্থী প্রচণ্ড শীতের মধ্যে অপেক্ষা করছে বসনিয়া সীমান্তে। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার এই চেষ্টাকে তারা বলে ‘গেইম’ বা খেলা।

ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টায় থাকা এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য আর উত্তর আফ্রিকার শরণার্থীদের জন্য ২০১৮ সালের পর থেকে বসনিয়া হয়ে উঠেছে সীমান্ত পার হওয়ার ‘ট্রানজিট রুট’। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের সীমান্ত পার হওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। আর জাতিগত দ্বন্দ্বে বিভক্ত দারিদ্র্যপীড়িত বসনিয়া সরকারের এই সঙ্কট সামাল দেওয়ার মত অবস্থা নেই। ফলে বহু মানুষের জন্য সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা যায়নি।

ইরাকি এ পরিবারটি দেশ ছেড়েছে তিন বছর আগে; নানা ঘাট পেরিয়ে এখন তাদের অবস্থান বসনিয়া সীমান্তে, যেখানে তাদের মতোই এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে আসা প্রায় ৮ হাজার শরণার্থী সীমান্ত টপকে পশ্চিম ইউরোপে প্রবেশের ‘সুযোগের অপেক্ষায়’ দিন কাটাচ্ছে। এ শরণার্থীদের বেশিরভাগই থাকছেন বনে তাঁবু পেতে অথবা গত শতকের শেষ দশকে বসনিয়া যুদ্ধে বিধ্বস্ত ও পরিত্যক্ত বাড়ি, কারখানাগুলোতে।

জয়নফদের পরিবার সীমান্তের কাছে পরিত্যক্ত একটি বাড়ির একটি ঘর ভাগাভাগি করে নিচ্ছে আফগানিস্তান থেকে আসা ৫ সদস্যের অন্য এক পরিবারের সঙ্গে। জয়নফের বাবা, ৫২ বছর বয়সী হুসেইন হালাফ জাবেরের অভিযোগ, সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টাকালে ক্রোয়েশিয়ান পুলিশের এক কর্মকর্তা তার পেটে আঘাত করেছেন এবং অবমাননাকরভাবে মাটিতে কোরান ছুড়ে ফেলেছিলেন। নিজের ছেলেমেয়েদের দেখিয়ে তিনি বলেন, “দেখুন, সে অসুস্থ, ও অসুস্থ, সবাই অসুস্থ।”

“আমাদের দোষ কী? সাথে থাকা এই বাচ্চাদের দোষ কী? কোথায় আমাদের মানবাধিকার,” পেটে আঘাতের দাগ দেখাতে দেখাতে প্রশ্ন ছুড়ে দেন অশ্রুসিক্ত হালাফ।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading