ওয়েবের জনক নতুন ওয়েব তৈরি করতে চাচ্ছেন
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৭:০০
ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের জনক হিসেবে পরিচিত ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী স্যার টিম বার্নার্স-লি।তিনি আবার সাইবার জগৎকে পুনর্নির্মাণ করতে চাইছেন। এ লক্ষ্যে তিনি ‘ইনরাপ্ট’ নামে নতুন একটি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান বা স্টার্টআপ তৈরি করেছেন।
ইন্টারনেট নেভিগেশন পদ্ধতি আবিষ্কারের কারণে তাকে নাইট উপাধি দেওয়া হয়।
সাইবার জগৎকে পুনর্নির্মাণ করার লক্ষ্য হচ্ছে তথাকথিত মুক্ত ওয়েবের অক্ষমতা দূর করতে সমাধান তৈরি করা। বর্তমান ওয়েব ফেসবুকের মতো বিশাল ও বদ্ধ প্ল্যাটফর্মে ভর্তি হয়ে গেছে, যেখানে ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ নেই।
‘সলিড’ নামের উন্মুক্ত বা ওপেন সোর্স সফটওয়্যার প্রকল্পের ধারণা থেকে উদ্ভূত ইনরাপ্ট উদ্যোগটি। এটি এমন এক ওয়েব তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যেখানে মানুষকে একবারই যেকোনো সেবার জন্য সাইন-ইন করতে হবে। এখানে ব্যবহারকারীর তথ্য বিশেষ ‘পডস’ বা ব্যক্তিগত অনলাইন ডেটা স্টোরে সংরক্ষিত থাকবে, যার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ব্যবহারকারীর হাতেই।
টিম বার্নার্স-লি ইনরাপ্টের সহ-উদ্যোক্তা। তিনি উদ্যোগটির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করছেন। রয়টার্স নেক্সট সম্মেলনে তিনি রয়টার্সকে বলেছেন, ‘মানুষ নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে বিরক্ত। নতুন, হালনাগাদ ওয়েব মানুষকে পারস্পরিক তথ্য শেয়ার ও একত্র হওয়ার সুযোগ দেবে। এভাবেই এখনকার বড় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো এত সফল হয়েছে কিন্তু ব্যবহারকারীর হাতে নিয়ন্ত্রণ দিতে পারেনি।’
ইন্টারনেটের জনক টিম বার্নার্স-লি বলেন, ‘নতুন ওয়েবের ব্যবহারবিধি হবে আরও বিস্তৃত। এটা ওয়েবকে আবার তৈরির মতো।’
ইনরাপ্টের প্রধান নির্বাহী জন ব্রুস বলেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করতে আমেরিকার ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস), বিবিসি ও বেলজিয়ামের গভর্নমেন্টস অব ফ্ল্যানডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। এপ্রিল মাস নাগাদ আরও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করবে ইনরাপ্ট।
ইনরাপ্টের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সফটওয়্যার নির্মাতাদের এ প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রোগ্রাম লিখতে উদ্বুদ্ধ করা। প্রকৃত ওয়েবের মতোই ইনরাপ্টের মূল বিষয়টি তৈরি হচ্ছে নির্ধারিত প্রটোকলের ওপর। একটি যন্ত্র আরেকটি যন্ত্রের সঙ্গে কীভাবে কথা বলবে, সে প্রটোকলের ওপরেই নতুন ওয়েব তৈরি করে নির্দিষ্ট অ্যাপ্লিকেশনকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হবে।
ব্রুস বলেন, ‘আমেরিকার এনএইচএসের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল অসংগত মেডিকেল রেকর্ডগুলো। ইনরাপ্টের মাধ্যমে তারা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত দিতে পারবে। চিকিৎসকসহ অন্য সেবাদাতারা ওই রেকর্ড হালনাগাদ করতে পারবেন। তবে এর পুরো নিয়ন্ত্রণ থাকবে ব্যবহারকারীর হাতে।’

