‘শান্তিতে পাকা ঘরে ঘুমাতে পারবো, প্রধানমন্ত্রীকে আল্লাহ নেক হায়াত দান করুক’
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৯:১০
এই বয়সে সারাদিন হাট বাজারে ঝুরিভাজা বিক্রি করেও শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম না। ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের কাঁপুনিতে ঘুম আসতো না। সামান্য বৃষ্টি হলেই পড়ত পানি। গরমের দিনে ঝড়ের আতঙ্কে থাকতাম সারাক্ষণ। একটু বাতাস হলেই চিন্তায় পড়তাম ছেলে নিয়ে কোথায় যাব। তবে এখন আর চিন্তা নেই, কষ্টের পরে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারবো। সন্তান নিয়ে আল্লাহর রহমতে নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো।
প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে এভাবেই নিজের অনুভুতির কথা বলছিলেন খুলনার রূপসার পিঠাভোগ গ্রামের ঝুরিভাজা (ময়দা দিয়ে তৈরি) বিক্রেতা ৭৫ বছর বয়সের বৃদ্ধ আব্দুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কখনও ভাবিনি পাকা ঘরে বাস করবো। আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমে আজ একটি পাকা ঘর পেয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে নেক হায়াত দান করেন।’
আরেক সুবিধাভোগী ও জাতিসংঘ থেকে রিয়েল হিরো উপাধি পাওয়া রূপসার বাগমারার আখি বলেন, নিজেদের ঘর না থাকায় পিতা-মাতার সাথে এতদিন খালার বাড়িতে থেকেছি। এখন ঘর পেয়ে নিজেদের বাড়িতে উঠবো। সেখানে খোলামেলা পরিবেশে খুব ভালোভাবে কাটবে বলে আশা করছি। ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করতে পারবো।
উপকারভোগী কয়রার নাকশার নার্গিস আক্তার বলেন, আমার স্বামী তালাক দেয়ার পর থেকে এতদিন মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়ি থেকেছি। লোকের বাড়ি কাজ করে ও নদীতে মাছ ধরে সংসার চালানোর পাশাপাশি অনেক চেষ্টা করেও নিজের একটি মাথা গোজার ঠাঁই জোগাড় করতে পারিনি। এভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ঘর পাবো জীবনে কখনও ভাবিনি।
রূপসার মৈশাঘুনি গ্রামের সুবিধাভোগী মাহমুদা বানু বলেন, বিধবা মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে এখন থেকে এক সাথে থাকতে পারবো ভেবেই খুব আনন্দ লাগছে। এতদিনতো আমি থাকতাম এক বাড়িতে আর ওই মেয়ে থাকতো আরেক বাড়িতে। এখন আমাদের মা জননী হাসিনা জায়গা দিয়েছে, ঘর দিয়েছে আমি তাতে অনেক খুশি।
রূপসার আঠারোবাকী নদী ভাঙনে নিঃস্ব হওয়া ৮০ বছরের ইউনুচ বলেন, ‘নদীর পাশে সরকারি জমিতে ঝুপড়িতে বেঁধে ৩০ বছর ধরে থাকছি। ঝড়-বৃষ্টিতে অনেক কষ্ট করেছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি যেন মানুষের কল্যাণে আরও কাজ করতে পারেন।’
শুধু তারাই নন প্রতিকূলতার মধ্যে জীবন পার করা খুলনার ৯২২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এখন দুই শতাংশ জমিসহ একটি সেমিপাকা ঘরের মালিক হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ঘর পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করেন।
এদিকে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৬৬ হাজার ১৮৯ পরিবারের মাঝে শনিবার বাড়ি বিতরণের অনুষ্ঠানটিকে দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আজ আমরা গৃহহীন এবং ভূমিহীন মানুষের মাঝে ঘর দিচ্ছি, এটি দেশের সবচেয়ে বড় উৎসব, বাংলাদেশে এর চেয়ে বড় উৎসব আর কিছু হতে পারে না। আমি সকলের কাছ থেকে দোয়া চাই যাতে আমরা দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।’
‘মুজিববর্ষ’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’ উপলক্ষে সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ঘর সরবরাহের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৬৬ হাজার ১৮৯ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

