চালের দাম বাড়ার কারণ জানালেন কৃষিমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ২০:৪৫
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সরকারি গুদামে চালের পর্যাপ্ত মজুত না থাকার কারণেই মূলত এ বছর চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এছাড়াও দীর্ঘ বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে বোরো ও আমন দুটিরই উৎপাদন কম হয়েছে। উৎপাদন কম হওয়ার ফলে দাম একটু বেশি ছিল। আর বাজার নিয়ন্ত্রণ না থাকার মূল কারণ হলো আমাদের সরকারের গুদামে পর্যাপ্ত চাল না থাকা, যদি আমাদের ১০ লাখ টনের বেশি থাকতো, তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যেতো। সরকারের গুদামে পর্যপ্ত চাল না থাকায় মিলাররা এই সুযোগটা নিয়েছে। মিলার, আড়তদার ও চালকল মালিকরা সুযোগ নিয়েছে। বাজারটা তাদের নিয়ন্ত্রণে গিয়েছে। সেটা আমরা অবশ্যই বিবেচনায় নেব। সামনের বোরোতে ধান চাল কেনা ও সরকারি মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করবো।
মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ চাল, আলু ও পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির কারণ উদঘাটনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল কর্তৃক আয়োজিত এ কর্মশালায় ‘বাংলাদেশ চাল, আলু ও পেঁয়াজের প্রাপ্যতা ও দামের অস্থিরতা: একটি আন্ত:প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা প্রতিবেদন-২০২০’ উপস্থাপন করা হয়।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, চাল আমদানির উদ্যোগ নেওয়ায় বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। সরকার দাম কমানো ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চালের দাম কমাতে আমদানি শুল্ক কমিয়ে ২৫ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে চালের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় এসেছে। তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে প্রতিবছর ২০ লাখ মানুষ যুক্ত হচ্ছে। ধান উৎপাদনের জমিও কমছে। সব মিলিয়ে ধানের উৎপাদনও কমছে। আমাদের ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। ব্রি ধান-৮৭ কে মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে। বিএডিসিকে তরিৎ গতিতে বীজ উৎপাদন করতে হবে। বিনা-১৬ ধানকেও দ্রুত মাঠে নিতে হবে।
আলুর উৎপাদন কম হওয়ায় পণ্যটির দাম বেড়েছিল জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এ বছর আলুর উৎপাদন কম হয়েছিল। কোল্ড স্টোরেজেও পর্যাপ্ত মুজদ ছিল না। করোনায় গরীব মানুষকে সাহায্য হিসাবে সবাই চাল, আলু ও পেঁয়াজ দিয়েছে। করোনায় সবাই গরীব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তখন আলুর চাহিদা বেড়েছিল। আর কোল্ড স্টোরেজ থেকে ব্যবসায়ীরা আলু সরবরাহ করতে বিলম্বও করছে। ১০ লাখ টন উৎপাদন কম হওয়ায় আলুর দাম বেড়েছিল।
তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার অন্যতম কারণ ভারতের রফতানি বন্ধ করে দেওয়া। আমাদের বিজ্ঞানীরা পেঁয়াজের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু সমস্যা হলো পর্যাপ্ত বীজ নেই। গরমকালেও কীভাবে পেঁয়াজ চাষ করা যায় সেই চেষ্টা চলছে। পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়িয়ে আমাদের কিছুটা হলেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে।

