অভ্যুত্থানের হুমকির পর সেনাবাহিনী বলছে, সংবিধান সুরক্ষা করবে
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ১৮:৩০
মিয়ানমারে নির্বাচনকে ঘিরে বেসামরিক সরকার এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনীর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সামরিক হুমকিতে অভ্যুত্থানের যে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো। তবে শনিবার (৩০ জানুয়ারি) মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সংবিধানের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং আইন মেনে চলবে।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসের নির্বাচনে এনএলডি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রভাবশালী বিরোধীদল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) ভোটে প্রতারণার অভিযোগ তুলে ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বৃহস্পতিবার সেনাপ্রধান জেনারেল মিং অং হ্লাং বলেন, ‘২০০৮ সালের সংবিধান হচ্ছে সব আইনের মা।’ একে সবার সম্মান দেখানো উচিত। তবে প্রয়োজন হলে এই সংবিধান বাতিল করা হতে পারে। তারপর থেকেই অভ্যুত্থানের গুঞ্জন শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়, ‘নির্বাচনে প্রতারণার’ অভিযোগ নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের ব্যবস্থা না করলে ‘ব্যবস্থা গ্রহণের’ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ওই ব্যবস্থা কী অভ্যুত্থান হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনীর
এক মুখপাত্র বলেছিলেন, সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে শনিবারের অফিশিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি তাদের প্রধান জেনারেল সংবিধান বিলোপের যে কথা বলেছেন, সংবাদমাধ্যমসহ কিছু সংস্থা তার অপব্যাখ্যা করেছে।
প্রসঙ্গত, জান্তা আমলে তৈরি মিয়ানমারের সংবিধানে সেনাবাহিনীকে বেশ কিছু ক্ষমতা দেওয়া আছে। যেমন: পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসনের সদস্য সরাসরি সেনাবাহিনী থেকে আসবেন। এতদিন পর্যন্ত দেশটির বেসামরিক সরকার সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করেই দেশ পরিচালনা করে আসছিল।

