গুগলের তথ্যে যৌন নিপীড়ককে ধরল সিআইডি
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ১৯:৩০
বরিশালের এক ছেলেশিশুকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন ২১ বছরের এক তরুণ। নিজের মোবাইলে সেই দৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে রাখেন। আর এই ভিডিও শনাক্ত করে গুগল। এরপর গুগলের দেয়া তথ্যে বরিশালের সেই নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি পুলিশ। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তাঁর বাড়ি। ঢাকার বনানীতে শ্রমিকের কাজ করেন। বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তিনি শিশুটিকে নিপীড়ন করেছিলেন। আর নিপীড়নের শিকার শিশুটি কৃষক পরিবারের সন্তান।
প্রায় দেড় বছর আগের ঘটনা এটি। ছবি এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে জড়িত তরুণকে রাজধানীর বনানী থেকে ১২ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, মোবাইলে শিশু নিপীড়নের তথ্যটি ইন্টারনেটে সংযুক্ত মোবাইল ডিভাইসে রাখার পরেই শনাক্ত করে ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন গুগল। এরপর গুগল সেটি জানায় ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেনের (এনসিএমইসি)। তারা এই তথ্যটি বাংলাদেশের সিআইডির কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এরপর সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন বিভাগ ওই নিপীড়ককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে।
অপরাধ তথ্য বিভাগ সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল মাসুদ বলছেন, এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তারা আমাদের অনেক তথ্য দিচ্ছে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করে দেখি। তার কিছু থাকে ইন্টেলিজেন্স, কিছু সতর্কতামূলক, কিছু সরাসরি শিশুদের নির্যাতনের। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করে বিভিন্ন ঘটনায় পদক্ষেপ নিচ্ছি।
গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে এই এনসিএমইসির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের অপরাধ তথ্য বিভাগ (সিআইডি)। বিশেষ পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল মাসুদ জানান, সংস্থাটির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর মধ্যেই বেশ কয়েকটি অভিযান চালানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি) আমেরিকাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান – যারা শিশু যৌন নির্যাতন ও শিশু পর্নোগ্রাফি বন্ধে কাজ করে। আমেরিকা নিবন্ধিত গুগল, ফেসবুকের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নেটওয়ার্কে শিশুদের যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য এই প্রতিষ্ঠানটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে থাকে। তারা সেসব তথ্য বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরবরাহের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।

