প্রকৃতিই পারে বিধ্বস্ত বনজঙ্গল আবার গড়ে তুলতে
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ১২:০০
২০১৮ সালে জার্মানির পূর্বাঞ্চলে ট্রয়েনব্রিৎসেন শহরের বাইরে এক দাবানল প্রায় চার বর্গ কিলোমিটার জঙ্গল ধ্বংস করে দেয়৷ প্রায় ৫০০ ফুটবল মাঠের চেয়েও বড় সেই জায়গা৷ দাবানলের পর সাধারণত গোটা এলাকা সাফ করে নতুন করে গাছ লাগানো হয়৷ তবে আরেকটি জমিতে তেমনটা করা হয় নি৷ সেখানে মৃত গাছগুলিকে সরিয়ে ফেলা হয় নি।
জার্মানির দুই গবেষক জানেট ব্লুমরোডার ও পিয়ের ইবিশ আগুনে বিধ্বস্ত জঙ্গলের একটি অংশে ছোট-বড় সব রকম পরিবর্তন নথিভুক্ত করার কাজ শুরু করেন৷ নিজেদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইবিশ বলেন, ‘‘যেমনটা আশা করেছিলাম ও চেয়েছিলাম, তেমনটাই ঘটছে৷ ইকোসিস্টেম আবার সেরে উঠতে শুরু করেছে৷’’
বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তারা বেশিরভাগ মৃত পাইন গাছ সরিয়ে সেই জায়গায় অন্য জাতের গাছ লাগাচ্ছেন৷ নানা জাতের গাছের মিশ্র জঙ্গল গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য৷
বন বিভাগের কর্মকর্তা ডিটরিশ হেংকে দুই গবেষকের সাহায্য নিয়েছিলেন৷ দাবানলে বিধ্বস্ত কোনো জঙ্গলকে মানুষের হস্তক্ষেপসহ অথবা প্রাকৃতিক নিয়মে পুনরুজ্জ্বীবিত করা এবং সেটিকে সমসাময়িক জলবায়ুর সঙ্গে মানিয়ে নেবার সেরা উপায় খুঁজতে৷
গবেষকেরা পর্যবেক্ষণ করছেন, মৃত গাছের কাঠ ছায়া দেবার পাশাপাশি মাটিতে পড়ে গিয়ে মাটি আরও উর্বর করে তোলে৷ এমন কাঠ হামাস বা পচা কম্পোস্ট তৈরি করে, যার ফলে মাটি আরও আর্দ্রতা পায়৷
হেংকের এ উদ্যোগ বন বিভাগের প্রথাগত ব্যবস্থাপনার আওতার বাইরে৷ তিনি বেশ কয়েকটি মৃত গাছে হাত দেন নি৷ খরার সময়েও মাটির যথেষ্ট আর্দ্রতা বজায় রাখতে পাতাও সরানো হয় নি৷ তিনি মনে করেন, এই অঞ্চলে বড় আকারের দাবানল দেখা গেছে৷ এমনটা চলতেই থাকবে বলে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী৷
সে কারণে গবেষক হিসেবে জানেট ব্লুমরোডার সেখানে এসেছেন৷ তিনি বেশ কিছুকাল ধরে মাটির আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছেন৷
আরও আটটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পে জড়িত রয়েছে৷ প্রকল্পের পাঁচ বছরের সময়সীমার মধ্যে যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, বার্লিনের কাছে এক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেগুলি সাজানো হচ্ছে৷
এই গবেষকরা এক আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কেরও অংশ৷ তারা জঙ্গলের ইকোসিস্টেম আরও মজবুত করে তোলা যায় কিনা, তাও দেখছেন৷
একাধিক গবেষণায় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত গাছের অবশিষ্ট অংশও জঙ্গলের ইকোসিস্টেমকে আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহায্য করে৷

