মাদাম তুসোর যাদুঘরে জায়গা পাওয়া ক্যাট ইনফ্লুয়েন্সার গ্রাম্পি ক্যাট

মাদাম তুসোর যাদুঘরে জায়গা পাওয়া ক্যাট ইনফ্লুয়েন্সার গ্রাম্পি ক্যাট

ফিচার| উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১| আপডেট : ০০:০১

ইন্টারনেটে বিখ্যাত গোমড়ামুখী এই বিড়ালটি সবার কাছে পরিচিত গ্রাম্পি ক্যাট হিসেবে, যার আসল নাম টারডার সস। ৭ বছর বয়সী টারডার ইন্টারনেট জগতে পেট ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। বিড়ালটির মালিক ট্যাবাথা বুন্ডেসেন ২০১২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর টারডারকে ঘরে নিয়ে আসেন। ট্যাবাথার ভাই ব্রায়ান তারপর একদিন বিড়ালটির সেই গোমড়ামুখী অভিব্যক্তি খেয়াল করলেন। সেটি ছবি তুলে রেডিট ডট কম -এ ছেড়ে দিলেন। ৪৮ ঘণ্টার মাঝেই তুমুল সাড়া পান টারডারের ছবি। এরপর মজাদার সব ছবি আর ক্যাপশনের জোয়ারে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভেসে বেড়াতে শুরু করল বিখ্যাত এই গ্রাম্পি ক্যাট।

রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া টারডার, মডেলিং ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রায় ১১.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।

২০১৫ সালে বিশ্বের প্রথম বিড়াল হিসেবে মাদাম তুসোর যাদুঘরে টারডারের মোমের মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছিল। গ্রাম্পি ক্যাটের জনপ্রিয়তা তখন আকাশছোঁয়া। এরই মাঝে হুট করে টারডারের ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন ধরা পড়ে। চিকিৎসা চললেও ধকল সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে মারা যায় ইন্টারনেটের বিখ্যাত এই গ্রাম্পি ক্যাট।

বিড়ালের মালিক তাবিথা বুন্দেসেনের মতে, বিড়ালটির মধ্যে কয়েকটি বিশেষ ধরণের রোগ থাকার কারণে এটি সবসময় বিশেষ ধরণের মৌখিক অভিব্যক্তি প্রকাশ করতো।

‘গোমড়ামুখে বিড়াল’ তার জীবদ্দশায় বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছে। ২০১৪ সালে বিড়ালটিকে নিয়ে বানানো বড়দিনের চলচ্চিত্রেও দেখা যায় তাকে। বিড়ালটির ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ফলোয়ারের সংখ্যা ২০ লাখরেও বেশি। ‘গ্রাম্পি’ বা গোমড়ামুখো হিসেবে পরিচিত এই বিড়ালটির ছবি লক্ষ লক্ষ মিম’এ ব্যবহার করা হয়েছে।

২০১৮ সালে একটি কপিরাইটের মামলায় বিড়ালটির মালিক ৭ লক্ষ ১০ হাজার ডলার অঙ্কের অর্থ জরিমানা পান। বিড়ালের ছবিস্বত্ত্ব নিয়ে দ্বন্দ্বে ‘গ্রাম্পি ক্যাট লিমিটেড’ গ্রেনেড নামের মার্কিন একটি কফি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামালা করে। কফি কোম্পানিটির শুধু মাত্র ‘গ্রাম্পুচিনো’ কফি বিক্রি করার ক্ষেত্রে বিড়ালটির ছবি ব্যবহার করার কথা থাকলেও অন্যান্য পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রেও বিড়ালটির ছবি ব্যবহার করছিল।

বিড়ালটি ইন্টারনেটে খ্যাতি পাওয়ার আগে বিড়ালের মালিক মিজ. বুন্দেসেন একটি রেস্টুরেন্টে পরিচারিকা হিসেবে কাজ করতেন।

সামাজিক মাধ্যমে তার বিড়াল ‘গ্রাম্পি’র প্রথম আবির্ভাবের কয়েকদিন পরই তিনি চাকরি ছেড়ে দেন বলে এক্সপ্রেস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন।

তার মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাগী বা গোমড়ামুখী অভিব্যক্তির জন্য পরিচিত হলেও অসংখ্য ইন্টারনেটবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে এই গ্রাম্পি ক্যাট।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading