স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল বাংলাদেশ: সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক
উত্তরদক্ষিণ | মুদ্রিত সংস্করণ
রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০০:০১
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে দেশের ধারাবাহিক সফলতার নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। এ নিয়ে উত্তরদক্ষিণের বিশেষ আয়োজন
প্রশংসায় ভাসছে গোটা দেশ
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তিতে প্রশংসায় ভাসছে গোটা দেশ। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশ এই সুপারিশ পেল, যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে জাতি।
মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার তিন সূচকেই বেঁধে দেয়া সময়ের আগেই লক্ষ্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় জাতির এমন অর্জনে উচ্ছসিত সব মহল। ২০১৮ সালে জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। আসছে ৫ বছর অগ্রগতি ধরে রাখতে পারলে ২০২৬ সালেই স্থায়ীভাবে মিলবে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাণিজ্য ও রাজনীতিতে আসবে পরিবর্তন, বাড়বে প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও। আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জোর দিতে হবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে।

উত্তরণের এই গৌরব নতুন প্রজন্মকে উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের গৌরব নতুন প্রজন্মকে উত্সর্গ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি এই অর্জন উত্সর্গ করছি- দেশের নতুন প্রজন্মকে। যারা আজকের বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।’ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করায় শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন।
শুরুতেই সরকার প্রধান বলেন, “আজ অবশ্য আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি বাংলাদেশের একটি মহত্ এবং গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য।” “বাংলাদেশ গতকাল (শুক্রবার) স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছি।” তিনি বলেন, “আমাদের এই উত্তরণ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি; আমরা মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের দ্বারপ্রান্তে। বাংলাদেশের জন্য এ উত্তরণ এক ঐতিহাসিক ঘটনা।” এ সময় ‘উন্নয়নের চলমান গতিধারা বজায় থাকলে বাংলাদেশ অচিরেই উন্নত দেশের কাতারে উঠবে’ বলে আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ অচিরেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।” প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, “এক যুগ আগের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।” বদলে যাওয়া এই দেশকে বুঝতে আর্থিক এবং অন্যান্য সূচকগুলোর দিকে সবাইকে দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ বছরে জিডিপির আকার ছিল মাত্র ১০৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ সালে তা ৩৩০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮-০৯ বছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫.৫৭ বিলিয়ন ডলার। আর ২০১৮-১৯ বছরে তা ৪০ দশমিক পাঁচ-চার বিলিয়ন ডলারে বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০০৮-০৯ বছরের ৭ দশমিক চার-সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৪৪ দশমিক শূন্য-তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০০১ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮.৯ শতাংশ এবং হত-দারিদ্র্যের হার ছিল ৩৪.৩ শতাংশ। ২০১৯ সালে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে শতকরা ২০.৫ ভাগ এবং হত-দারিদ্র্যের হার ১০.৫ শতাংশে। ২০০৯-১০ সালে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ৫,২৭১ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতা ২৪ হাজার ৪২১ মেগাওয়াটে উন্নীত এবং বিদ্যুত্ সুবিধাভোগী জনসংখ্যা ৪৭ থেকে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উত্পাদনে তৃতীয় এবং মাছ-মাংস, ডিম, শাকসবজি উত্পাদনেও স্বয়ং-সম্পূর্ণ। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উত্পাদন বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে এবং ইলিশ উত্পাদনকারী ১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম। উন্নয়ন অভিযাত্রায় ’ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এর সুবিধা শহর থেকে প্রান্তিক গ্রাম পর্যায়েও বিস্তৃত হওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ এর সুবিধা কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথাও বলেন তিনি।
মহামারীকালে নতুন চ্যালেঞ্জ
করোনাভাইরাস মহামারীর বাস্তবতায় উত্তরণ প্রক্রিয়াকে টেকসই ও মসৃণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সিডিপির কাছে প্রস্তুতির জন্য পাঁচ বছর সময় চাওয়া হয়েছে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটবে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠলে ঋণ পাওয়া এবং বিভিন্ন রপ্তানি সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। ফলে সেই সুবিধাগুলো উত্তরণের প্রস্তুতি পর্বে চাওয়া হয়েছে। প্রস্তুতির এই সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে প্রাপ্ত সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবে। তাছাড়া বর্তমান নিয়মে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের পর আরও তিন বছর অর্থাত্ ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করতে পারবে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে বের হওয়া প্রত্যাশিতই ছিল। এর আগে ২০১৮ সালে জাতিসংঘের বৈঠকে বাংলাদেশ সম্পর্কে যে, প্রতিবেদন ছিল সেখানে সব সূচকে আমরা উপরে ছিলাম। ফলে গতকালের (শুক্রবারের) রিভিউ বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হওয়ার সব যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাই বলা যায়, এটা আমাদের প্রত্যাশিত। মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, মাথাপিছু আয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা রোধের সূচকে বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরেই ভালো করছে বিশ্বের বেশ কিছু দেশের তুলনায়। ২০১৮ সালে সিডিপির মূল্যায়নে তা উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে বের হওয়ার পর বাংলাদেশ বেশকিছু সুবিধা পাবে। তবে এর ফলে কতটুকু সফলতা আসবে সেটা ভবিষ্যতে বলা যাবে। বাংলাদেশের সতর্ক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। বেশকিছু চ্যালেঞ্জ আছে সামনে। এর মধ্যে আমরা যে বৈদেশিক সাহায্য পেতাম সেটা কমে যাবে। কিছু ক্ষেত্রে আমরা আর পাব না। বিশ্ব বাজারে আমাদের একটি নতুন প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়তে হবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের নতুন করে আলোচনা করতে হবে। ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাক্ট সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। আপাতত এটা বন্ধ না হলেও আমরা কিছু সময় পাব। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই বন্ধ হবে। সেটা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আরও বলেন, সব মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আগামী রিভিউ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে যেন কোনো সংকটে পড়তে না হয়। সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি থাকলে বাংলাদেশ এলডিসিমুক্ত রাষ্ট্র হলে আমরা বেশি সুবিধা পাব।

প্রয়োজন কৌশলপত্র তৈরি করা
এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে বেরিয়ে আসাটা একটি দেশের জন্য যেমন বিরাট সাফল্যের বিষয়, গৌরবময় অর্জন, তেমনি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকাতে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যেত সেটি হারানোর ধাক্কা সামলে নিয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি নিয়ে ভাবাটাও জরুরি হয়ে পড়ে। করোনাভাইরাস মহামারীর বাস্তবতায় নতুন এই চ্যালেঞ্জ- ‘উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় বাংলাদেশের উত্তরণ’ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ‘এলডিসি রূপান্তর কৌশলপত্র’ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ এখন মাত্র এই উত্তরণ যাত্রা শেষের শুরু হলো।
তিনি বলেন, “এই কৌশলপত্রে শুধু সম্ভাব্য প্রতিকূল ফলাফলগুলোর মোকাবিলা করার বিষয়গুলো থাকবে না, বরং বাংলাদেশের জন্য একটি মসৃণ এবং টেকসই উন্নয়নের রূপরেখা থাকবে। কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা এবং প্রোগ্রামগুলো এই রূপান্তর কৌশলপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, উৎপাদনশীল সক্ষমতা তৈরির বিষয়টি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মৌলিক এবং মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। এর ফলে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত উন্নতি ও শ্রম উত্পাদনশীলতার উন্নতি হবে। দেশীয় বাজার সম্প্রসারণ এবং একত্রীকরণের ওপর ফোকাস এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অবশ্যই ‘এলডিসি রূপান্তর কৌশলপত্র’ তৈরির জন্য গাইড হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের রূপান্তরের প্রতিক্রিয়া দেখা যাওয়া শুরু হয়েছে। যেমন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই বাণিজ্যের ধাক্কা মোকাবিলার জন্য ব্যবসার বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে শুরু করেছে। ড. দেবপ্রিয় বলেন, এলডিসি গ্রুপ থেকে কোনো দেশ বেরিয়ে আসার অর্থ মূলত এর উন্নয়ন সাফল্য সম্পর্কিত বৈশ্বিক স্বীকৃতি। এটি সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতি অন্যান্য দেশের আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। সুতরাং এলডিসি গ্রুপ থেকে বের হওয়ার পরে আন্তর্জাতিক রেটিং সাধারণত আপগ্রেড হয়। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের উত্সাহও বাড়ে। দেখা গেছে, এলডিসি গ্রুপ ছেড়ে যাওয়ার পরে দেশগুলোর দেশীয় কর আদায় এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি পায়।
জাতিসংঘের সুপারিশ
স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি’র তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির চেয়ার টেফারি টেসফাসো শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নিউ ইয়র্কে সিডিপির পাঁচ দিন ব্যাপী ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভা শেষে এই ঘোষণা আসে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোন দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়।
উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার। মানবসম্পদ সূচকে উন্নয়নশীল দেশ হতে ৬৬ পয়েন্টের প্রয়োজন; বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭৫.৩। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে কোনো দেশের পয়েন্ট ৩৬ এর বেশি হলে সেই দেশকে এলডিসিভুক্ত রাখা হয়, ৩২ এ আসার পর উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন হয়। সেখানে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ২৫ দশমিক ২।

