কিশোরের রিমান্ড আবেদন নাকচ
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৫:৩০
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় কারাবন্দী কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত। কিশোরের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া আসামিকে হাজির না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালতের কাছে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি চান। পাশাপাশি যে মামলায় একবার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সেই মামলার আসামিকে রিমান্ডে নিতে পুলিশের ওই আবেদনের এখতিয়ার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জ্যোতির্ময়।
রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে নাকচ করেন ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম ।

গতবছর ৫ মে করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর এবং অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। পরদিন ‘সরকারবিরোধী প্রচার ও গুজব ছড়ানোর’ অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তাদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করা হয়।
সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহসীন সর্দার তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে। চার্জশিটভূক্ত অপর দুই আসামি হলেন- রাষ্ট্রচিন্তার ঢাকার সমন্বয়ক দিদারুল ভুইয়া ও লেখক মুশতাক আহমেদ। এরমধ্যে কারাবন্দি মুশতাক আহমেদ মারা গেছেন। চার্জশিটে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষ তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর আপত্তি করে পুনরায় তদন্তের আবেদন করেন। এরপর ঢাকার সাইবার ট্রাইবু্নালে আসসামছ জগলুল হোসেন আবেদন মঞ্জুর করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটকে (সিটিটিসি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলাটি অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আগামী ১০ মার্চ ধার্য করেন।
সেই শুনানি হওয়ার আগেই গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় মুশতাক আহমেদের মৃত্যু হয়।
র্যাব-৩ এর ডিএডি আবু বকর সিদ্দিকের করা এই মামলায় রাষ্ট্রচিন্তার সংগঠন দিদারুল ভূইয়া এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে পরে এ দুজন জামিনে মুক্তি পান। মুশতাক ও কিশোরের পক্ষে বেশ কয়েকবার জামিনের আবেদন হলেও তা আদালতে নামঞ্জুর হয়। এই মামলায় আসামির তালিকায় মুশতাক, কিশোর, দিদার, মিনহাজের সঙ্গে আরও ছিলেন নেত্র নিউজের সম্পাদক সুইডেন প্রবাসী তাসনিম খলিল, জার্মানিতে থাকা ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ আলম, হাঙ্গেরি প্রবাসী জুলকারনাইন সায়ের খান, আশিক ইমরান, স্বপন ওয়াহিদ ও ফিলিপ শুমাখার।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই জামশেদুল ইসলাম তখন বলেছিলেন, কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ নামের ফেইসবুক একাউন্টে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। আর মুশতাক তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেসব পোস্টের কয়েকটি শেয়ার করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আহমেদ কবির কিশোর ও মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে রাষ্ট্রবিরোধী ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং অস্থিরতা-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করার অভিযোগ রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ‘আই অ্যাম বাংলাদেশ’ ফেইসবুক পেইজটি পরিচালনায় জড়িতদের উদ্দেশ্য জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
কিশোরের অনুপস্থিতিতেই এদিন আদালতে রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। এদিন কিশোরের জামিনের জন্য কোনো আবেদন ছিল না।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মুশতাকের মৃত্যুতে প্রতিবাদ হচ্ছে। এছাড়াও কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোরের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট অ্যাসোসিয়েশন।

রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ফটকে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন পেশাদার কার্টুনিস্টদের সংগঠন বাংলাদেশ কার্টুনিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কার্টুনিস্ট আবু হাসান বলেন, কার্টুনিস্ট কিশোরের জামিন দেওয়া জরুরি। কিশোরের দ্রুত জামিন এবং যথাযথ চিকিৎসার আবেদন জানাই।
সংগঠনের যুগ্ম-সম্পাদক মেহেদী হক বলেন, আমাদের এখন একটাই দাবি কিশোরের জামিন। আশা করছি কর্তৃপক্ষ তা বিবেচনা করবেন।
জানা গেছে, কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। মুশতাক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেসব পোস্টের কয়েকটি শেয়ার করতেন। এই মামলার ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

