মোজাম্বিকে জঙ্গি হামলা: নিখোঁজ অর্ধশতাধিক
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১১:৪০
পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকের পালমা শহরে জঙ্গি হামলায় কযেক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে কমপক্ষে ৬০ জন। এলাকাটিতে গত বুধবার থেকেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘাত ক্রমেই রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।
সর্বশেষ শুক্রবার নিহত সাত জনের প্রায় সবাই বিদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। দ্য গার্ডিয়ান-এর।
খবরে বলা হয়, জঙ্গিরা বুধবার থেকেই ওই এলাকায় আক্রমণ শুরু করে। শহরটিতে থাকা দেশি-বিদেশি কয়েকশ’ লোককে উদ্ধারেরও খবরও পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা উদ্ধারকারী নৌকার অপেক্ষায় সমুদ্রতীরে লুকিয়ে থাকার সময় ছড়ানো ছিটানো একাধিক মাথাবিহীন দেহ দেখেছেন।
আতঙ্কিত মানুষ শহরটি থেকে যেকোনো উপায়ে পালানোর চেষ্টা করছে; মেরিন ওয়েবসাইটগুলোতে পালমার আশপাশ এবং দক্ষিণের বন্দরনগরী পেমবায় মালবাহী নৌযান, যাত্রীবাহী জাহাজ, টাগবোট এবং নানান ধরনের নৌকাসহ একঝাঁক নৌযান দেখা যাচ্ছে।
এক ঠিকাদার জানিয়েছেন, হোটেল থেকে গাড়িবহরে পালানো অনেকে শুক্রবার রাতে সমুদ্রতীরে লুকিয়ে ছিলেন, শনিবার সকালে নৌকায় করে তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পালমার বাসিন্দা এবং সেখানে যারা কাজ করেন তারাই এই উদ্ধার তৎপরতার সমন্বয় করছেন বলেও জানান এ ঠিকাদার।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানায়, বুধবার শহরটিতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘাত শুরুর পর ওই এলাকা ছাড়তে শুরু করে মানুষ। তবে হোটেলে আটকা পড়েন গ্যাসকর্মী হিসেবে কাজ করা কিছু বিদেশি নাগরিকসহ আরও অনেকে। সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধারের চেষ্টাকালে জঙ্গিরা ফের হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে যাওয়া একজন ঠিকাদার বিবিসিকে বলেছেন, স্থানীয় সরবরাহকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলো লোকজনকে উদ্ধারে ব্যাপক চেষ্টা করেছে। তবে বৃহৎ কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজ দেশের নাগরিকদের উদ্ধারে মোজাম্বিকে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিকে এই হামলার ফলে আফ্রিকা মহাদেশে ফ্রান্সের বিশাল একটি বিনিয়োগ প্রকল্প হুমকির মুখে পড়েছে। কেননা, ঘটনাস্থল এলাকাতেই ফরাসি প্রতিষ্ঠান টোটাল গ্যাসের কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প চালু রয়েছে। মূলত ওই প্রকল্পকে কেন্দ্র করেই এলাকাটিতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার বহু বিদেশি ঠিকাদার ও কর্মীরা অবস্থান করছিলেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোজাম্বিকের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছে টোটাল কর্তৃপক্ষ।

