নড়ল সুয়েজ খালে আটকে পড়া সেই জাহাজ
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১৩:০৫
প্রায় সাতদিন প্রাণান্ত চেষ্টার পর অবশেষে নড়ানো গেল মিসরের সুয়েজ খালে আটকে পড়া দৈত্যাকার জাহাজ এমভি এভার গিভেনকে। খবর রয়টার্স, সিএনএন-এর।
খবরে জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার (২৯ মার্চ) ভোররাতে খালের মধ্যে আড়াআড়ি আটকে পড়া জাহাজটিকে সোজা করা সম্ভব হয়। লোহিত সাগরের সঙ্গে ভূমধ্যসাগরকে যুক্ত করতে মানুষের তৈরি বৃহত্তম এই খাল দিয়ে জাহাজ চলাচলও শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৫০০ মিটার লম্বা, ৫৯ মিটার চওড়া, দুই লাখ ২০ হাজার টনের জাহাজটি ভূমধ্যসাগরের দিকে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে সেটি খালের মধ্যে আড়াআড়ি আটকে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রবল বাতাসের কারণে জাহাজের হাল বিচ্যুত হয়। এরপর তা ঘুরে যায়। জাহাজের তলা খালের নিচে কাদামাটির মধ্যে আটকে ছিল।
আটকে পড়া দানবাকার জাহাজটি সরাতে চেষ্টা চলছিল নানাভাবে। ড্রেজিং-শিপ এনে, টাগ বোট লাগিয়ে, জোয়ারের সময় বেড়ে যাওয়া পানি ও উঁচু ঢেউকে কাজে লাগিয়ে সেটি নড়ানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছিল না।
এদিকে সুয়েজ খাল অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে এক হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু মিসরেরই প্রতিদিন ক্ষতি হচ্ছে এক কোটি ২০ লাখ থেকে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার।

এভার গিভেন এভাবে আটকে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগর বা লোহিত সাগর কোনোদিক থেকেই জাহাজ আসা-যাওয়া করতে পারছিল না। ফলে দুই পাশেই প্রচুর জাহাজ আটকে পড়ে। সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, খালের দুপাশে কন্টেইনারবাহী, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী, তেলের ট্যাংকার এবং পশুবাহী অন্তত ৩৬৯টি জাহাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে রোমানিয়ারই ১৩টি পশুবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে, যাতে কয়েক হাজার পশু রয়েছে। মিসর জানিয়েছে, ওই জাহাজগুলোতে পশু চিকিৎসক, খাবার ও পানি পাঠানো হচ্ছে।

